দেশের আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক (অ্যাপার্টমেন্ট) এ কে এম শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার

প্রথম আলো: বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো আবাসন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ৫৭ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে। এ সাফল্যের পেছনের রহস্য কী?

এ কে এম শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার: ব্যবসায় লম্বা সময়ের জার্নিতে অনেক প্রতিষ্ঠানই নানা কারণে রুগ্‌ণ হয়ে যায়। সেই জায়গায় ইস্টার্ন হাউজিং ব্যতিক্রম। ছয় দশক ধরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করার মূল শক্তি হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা। আমরাও গ্রাহকদের সেই আস্থার প্রতি সব সময়ই শ্রদ্ধাশীল। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রয়াত চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম স্যারকে স্মরণ করতে হবে। উনি একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যবসায়ী ছিলেন। উনার সততার জায়গাটি ছিল খুবই শক্তিশালী। উনি কখনোই মান, সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আপোষ করতেন না। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৭ বছর ধরে আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিংয়েরও টিকে থাকার মূলমন্ত্র হচ্ছে সততা আর স্বচ্ছতা। আমােদর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা এ দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন। সহজভাবে বললে আমি বলব, আমরা কখনোই সততা িববর্জিত ব্যবসা করি না। অধিকাংশ জমির কাগজপত্রে অনেক ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি থাকে। তবে আমরা সব রকমের যাচাই–বাছাই করার পরই জমি নিয়ে থাকি। সে জন্য গ্রাহকেরা বিশ্বাস করেন, ইস্টার্ন হাউজিং থেকে জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না।

প্রথম আলো: ইস্টার্ন হাউজিং ঢাকায় মহানগর, আফতাবনগরের মতো কয়েকটি হাউজিং প্রকল্প করেছে। জমির সংকট ও উচ্চ মূল্যের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প কি আর করা সম্ভব?

শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার: অনেক দেশেই সরকার হাউজিংয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়। আমাদের দেশে তেমনটা হয় না। বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যে যার মতো জমি নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো হাউজিং করি না। আমরা জমির মালিকদের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যাই। ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা প্রকল্প এলাকাতেই প্লট দিয়ে থাকি। আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হচ্ছে, শুরুর দিকে ইস্টার্ন হাউজিং রাজধানীর ঢাকায় যেভাবে হাউজিং প্রকল্প করেছে, সে রকম ভবিষ্যতে আরও করা সত্যিই কঠিন। কারণ, জমির সংকট প্রকট হচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম। তারপরও আমরা আফতাবনগরের হাউজিং প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রথম আলো: ফ্ল্যাটের দাম তো আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার কি কোনো উপায় আছে?

ফিচার বিজ্ঞাপন

জাকার্তা ও বালি ৭দিন ৬ রাত

মূল্য: ৩৩,০০০ টাকা

Cambodia (Phnom Penh & Siem Reap) 6D/5N

মূল্য: 43,900 Taka

তুরস্ক ভিসা (বিজনেসম্যান)

মূল্য: ১৫,০০০ টাকা

শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার: গুলশান, বারিধারও বনানীর মতো ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম কমানোর কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ঢাকার আশপাশের কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে নজর দিতে হবে। সেখান থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়ার জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথের উন্নয়ন করতে হবে, যেন আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিটে ঢাকায় আসা যায়। সেই সঙ্গে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন প্রকল্প করার জন্য জমি দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের জন্যও ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। যাতে করে শুধু পরিবারের কাজের লোকটি সকালে ঢাকায় এসে বিকেলে আবার ফিরে যান। আবাসন মানুষের মৌলিক চাহিদা, যা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের একার পক্ষেও সম্ভব নয়। সে জন্য তো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকার বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। একইভাবে হাউজিংয়ের জন্য আলাদা অঞ্চল দেওয়া যেতে পারে। সরকার যদি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানকে জমি ইজারা দেয় তাহলে সাধারণ মানুষকে কম দামে আবাসন দেওয়া সম্ভব।

প্রথম আলো: আপনারা কি শুধু সমাজের উচ্চবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট বানাচ্ছেন?

শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার: প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সমাজের সব স্তর, অর্থাৎ উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট বানাচ্ছে ইস্টার্ন হাউজিং। আমাদের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। গুলশানে আমাদের এমন ফ্ল্যাট রয়েছে, যেখানে আপনি কেবল আপনার ব্রিফকেস নিয়ে গেলেই হবে। বাদবাকি সব ধরনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজানো–গোছানো রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।



৬৪ বার পড়া হয়েছে