চারশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী শহর পুরান ঢাকা এখন নানান সমস্যার জর্জরিত। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সরু রাস্তা, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ,  ঘনবসতিসহ বিবিধ কারণে বসবাসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকা। নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই এখানে। এ অবস্থায় পুরান ঢাকাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে এতে বাধাও রয়েছে পাহাড়সম। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে ‘পুনঃউন্নয়ন’ পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে পুরান ঢাকাকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করা যাবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সঠিক কর্মপরিকল্পনা।

পুনঃউন্নয়ন পদ্ধতি

কোনও নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের ছোট ছোট আয়তনের জমি একত্রিত করে ব্লক-ভিত্তিক উন্নয়নকে পুনঃউন্নয়ন বলা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকরা আনুপাতির হারে উন্নয়নকৃত সম্পত্তির মালিক হন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অপরিকল্পিত, ঘনবসতিপূর্ণ, অপ্রতুল নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন এলাকার বাসিন্দাদের চাহিদা ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তাদের মতামতগুলোকে সন্নিবেশিত করে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাদিসম্পন্ন একটি পরিকল্পিত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

যেসব এলাকা নিয়ে পুরান ঢাকার বিস্তার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আটটি থানার ১১টি ওয়ার্ড নিয়ে পুরান ঢাকার বিস্তৃতি। এই এলাকার আওতাধীন মহল্লাগুলো হচ্ছে— লালবাগ, আরমানিটোলা, সুত্রাপুর, জালুয়া নগর, হাজারীবাগ, লালবাগ, চকবাজার, সদরঘাট, কোতোয়ালি, বানিয়ানগর, বাবুবাজার, ওয়ারী, বেগমবাজার, বংশাল রোড, ধোলাইখাল, গেন্ডারিয়া, পোস্তা,  বংশাল, শাঁখারী বাজার, গোয়ালনগর, লক্ষ্মীবাজার, তাঁতিবাজার, বাংলাবাজার, সুতারনগর ও পাটুয়াটুলী।

অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থাপনা

ড্যাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় ৫ ফুট প্রশস্তের নিচে ১০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার, ৫-১০ ফুটের ৪৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, ১০-১৫ ফুটের ৩২ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার, ১৫-২০ ফুটের ১৬ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার, ২০-৩০ ফুটের ১২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার, ৩০-৫০ ফুটের ৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার, ৫০ থেকে ১০০ ফুট প্রশস্তের ৪ দশমিক ৩১ কিলোমিটার এবং ১০০ ফুট প্রশস্তের ওপরে মাত্র ০ দশমিক ০৪ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যা আদর্শ মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম।

ভবনের পরিসংখ্যান

ড্যাপের পরিসংখ্যান বলছে, পুরান ঢাকার ১১টি ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৪ হাজার ৫০৪টি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে একতলা ৯ হাজার ২৮২টি, দোতলা ৩ হাজার ৭৩৯টি, তিন তলা ২ হাজার ৭২৪টি, ৪ তলা  ২ হাজার ৭০৫টি, ৫ তলা  ২ হাজার ৬১১টি, ৬ তলা ২ হাজার ৪৯৭টি, ৭ তলা  ৭২০টি, ৮ তলা ১২৫টি, ৯ তলা  ৪৭টি, ১০ তলা  ২৫টি, ১১ তলা ১৭টি এবং ১২ তলার বেশি ১২টি ভবন রয়েছে।

ভূমির ব্যবহার

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় মোট এক হাজার ১৩১ দশমিক ৪৬ একর জমি রয়েছে। এরমধ্যে আবাসিক হিসেবে ৩৪ দশমিক ৫৪ একর, মিশ্র হিসেবে ২৩ দশমিক ৩৬ একর, পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য ১০ দশমিক ৩২ একর, শিক্ষা ও গবেষণার জন্য ৮ দশমিক ৮৯ একর, বাণিজ্যিক হিসেবে ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, উন্মুক্ত স্থান হিসেবে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, সংরক্ষিত হিসেবে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ, জলাশয় হিসেবে ২ দশমকি ৮ শতাংশ, শিল্প হিসেবে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে শূন্য দশকি ৩১ শতাংশ, খালি জায়গা হিসেবে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ এবং প্রশাসনিক হিসেবে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ ভূমি ব্যবহার হচ্ছে।

আদর্শ মানদণ্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জনঘনত্ব

পুরান ঢাকার এলাকাগুলোতে আদর্শ মানদণ্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জনবসতি রয়েছে। একটি আদর্শ আবাসিক এলাকায় প্রতি একরে ১২০ জনকে সমর্থন করা হয়। কিন্তু এই এলাকায় প্রতি একরে ২২৭ জন থেকে শুরু করে এক হাজার ৩৭৯ জন পর্যন্ত বসবাস করছে, যা আগামী ১০ বছরে দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে এই এলাকায় প্রতি একরে ৪২০ জন করে বসবাস করছে।

মূল সমস্যা

পুরান ঢাকার অন্যতম সমস্যাগুলো হচ্ছে— জরাজীর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত রোড নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ, অপর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত নাগরিক উন্মুক্ত স্থান, ‍উচ্চ ঘনত্ব, নিম্নমানের জীবনযাপন, ভূমিকম্প ও অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

‍রাজউকের বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্লটে বাড়ি নির্মাণের জন্য যে ন্যূনতম জায়গা বা সেটব্যাক হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার কথা, পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বহু এলাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।  সেটব্যাকের প্রশস্ততা কম হওয়ায়  প্লট মালিকরা নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ছাড়তে আগ্রহী নন। যে কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ছে পুরান ঢাকায়। তাছাড়া অধিকাংশ বাড়ির মালিকের কাগজপত্র না থাকায় বৈধ উপায়ে তারা ভবনের অনুমোদন ও অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিস পান না। এ অবস্থায় পুরান ঢাকার ক্ষুদ্রক্ষুদ্র প্লটগুলোকে একত্রিত করে ব্লকভিত্তিক উন্নয়নের পাশাপাশি আলাদা করে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে, তা ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে বলেও মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বিশেষজ্ঞ মতামত

জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার উন্নয়নের জন্য অবশ্যই ব্লকভিত্তিক পদ্ধতিতে আসতে হবে। পৃথিবীর অনেক শহরে এমন নজির রয়েছে। আমরা সে জন্যই একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি। তবে এতে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক বাড়ি মালিকের বৈধ কাগজপত্র নেই। এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করেও তা পুনঃউন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার চাইলে নতুন পদক্ষেপ নিতে পারে।’

নগর পরিকল্পনা বিভাগ ও অট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই আয়েশা সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি শহরের নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। চাইলেই পুরান ঢাকাকে সিঙ্গাপুর বা কুয়ালামপুর করা যাবে না। তবে একে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পুনঃউন্নয়ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি স্থাপনার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে পুনঃউন্নয়ন করতে হবে।’

পুরান ঢাকা নিয়ে ড্যাপের সুপারিশ

ফিচার বিজ্ঞাপন

Alexandria & Cairo 6D/5N

মূল্য: 38,900 Taka

US Visa (Spouse)

মূল্য: 5,000 Taka

পুরান ঢাকা নিয়ে ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায়’ ড্যাপ (ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান) এর তরফেবিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে— ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষণ করে পর্যটন এবং বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত করা। বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরে পুরো ঢাকার জন্য সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করা, ‘সংস্কৃতিভিত্তিক শহুর পুনর্গঠন’ প্রক্রিয়ায় ভূমির পুনঃউন্নয়ন কৌশল অবলম্বন করে এই এলাকায় মৌলিক সুবিধাদির ব্যবস্থা করা, জনমানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী রাসায়নিক গুদাম পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা ও পুরান জেলখানা এলাকার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জনপরিসর গড়ে তোলা। জন্য একই রকম বিধিমালা না করে অনন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পুরান ঢাকার জন্য পৃথক বিধিমালা প্রস্তুত করতে হবে বলেও ড্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কেমন হবে পুরান ঢাকা

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, প্রকল্পভুক্ত জনসাধারণের মতামত ও চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিদ্যমানভবন ও অবকাঠামোগুলোর পুনঃনির্মাণ, পুনর্বিন্যাস ও কাঠামোগত হালনাগাদ, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পরিকল্পিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এছাড়া ভূমিকম্প, অগ্নি দুর্ঘটনাসহ অনান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা, পর্যাপ্ত গাছপালাযুক্ত পার্ক, খেলার মাঠসহ খোলা জায়গা সৃষ্টি হবে।

বিশ্বব্যাপী আরবান রিডেভেলপমেন্ট

পৃথিবীর অনেক দেশ আরবান রিডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে তাদের শহরগুলোকে পুনঃউন্নয়নের আওতায় এনেছে। অনেক ঘন বসতিপূর্ণ শহরে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যেসব দেশ আরবান রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নিয়ে সফল হয়েছে তার মধ্যে সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম।

রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি

রাজউক জানিয়েছে, ৩টি পদ্ধতি থেকে যে কোনও একটির মাধ্যমে রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করো যাবে। এগুলো হচ্ছে—রাজউকের সহযোগিতায় ভূমি মালিক সমিতির নিজস্ব উদ্যোগে, ভূমি মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানির চুক্তির মাধ্যমে এবং ভূমি মালিক সমিতির সঙ্গে রাজউকের চুক্তির মাধ্যমে।

সম্পত্তি মূল্যায়ন পদ্ধতি

বর্তমান বাজার মূল্যে বিদ্যমান জমির মূল্যায়ন, ঘর বা কাঠামোর প্রতিস্থাপন খরচ, বর্তমান কাঠামোর মূল্যনির্ধারণ, বর্তমান বাজার মূল্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক স্পেসের মূল্য নির্ধারণ, যেসব বাসিন্দার মালিকানাসংশ্লিষ্ট বৈধ নথিপত্র নেই, কিন্তু জমিটি দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করছেন, তারা কর্তৃপক্ষের অধীন গঠিত সম্পত্তি মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত সম্পত্তি পাবেন।

ফ্ল্যাট বিতরণ পদ্ধতি

ভূমির মালিকানা বা দীর্ঘ মেয়াদী দখল বিবেচনা করা।  বিল্ডিংয়ের বয়স, গঠন ও গুণমান। কমিউনিটি স্পেসগুলোর সমন্বিত মালিকানা। ভূমি মালিকানা বা দীর্ঘ মেয়াদী দখল সত্ত্বের হিসেবে  বাণিজ্যিক স্থান বণ্টন এবং ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েশন করে ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর।

প্রধান চ্যালেঞ্চ

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আশার আলোর পাশাপাশি বেশকিছু চ্যালেঞ্চও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পলিসি বিষয়ক সিদ্ধান্ত,  কমিউনিটির ওপর নির্ভরশীলতা, প্রাথমিক আর্থিক তহবিল, আইনি কাঠামো, প্রাথমিক পুনর্বাসন, ডেভেলপারদের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার, কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক উন্নয়নে অবদান ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধাপ

প্রথম বছর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিশদ নকশা প্রণয়ন ও প্রকল্প অনুমোদন এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে চুক্তি। দ্বিতীয় বছর মূলত বাণিজ্যিক এলাকা ও রাস্তা নির্মাণ করা। তৃতীয় বছর স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং ইউটিলিটি লাইট সম্পন্ন করা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, খেলার মাঠ এবং বিনোদন কেন্দ্রসহ কমিউনিটি সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টগুলো মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া।

সুপারিশ

পুরান ঢাকায় নগর পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশকিছু বিশেষজ্ঞ সুপারিশ এসেছে। তাতে বলা হয়েছে— প্রকল্প এলাকার সীমানা চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ভৌত ও আর্থ-সামাজিক জরিপ, পরিবেশ ও পরিবহনগত প্রভাব এবং সামাজিক প্রভাব সমীক্ষার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন করতে হবে। এছাড়া ওই এলাকায় বসবাস ও জীবিকা নির্বাহকারী জনসাধারণসহ সব স্টেক হোল্ডারদের  সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করতে হবে। রাজউক প্রণীত নগর পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বিষয়ক খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে হবে। প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোর ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে উন্নয়ন করতে হবে। প্রকল্প এলাকাভুক্ত সাধারণ জনগণ যেন মূল সুবিধাভোগী হন, সে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, তিতাস, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দফতর ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ করতে হবে।

শাহেদ শফিক, বাংলা ট্রিবিউন, ০৬ মার্চ ২০২২

প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।



১২৭ বার পড়া হয়েছে