ফ্ল্যাট ও প্লটসহ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন খরচ দেড় শতাংশ কমাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এতদিন সম্পত্তি নিবন্ধনকালে তার মূল্যের ৩ শতাংশ অর্থ স্ট্যাম্প ডিউটি হিসেবে পরিশোধ করতে হতো। এখন তা কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিবন্ধনকালে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ খরচ অর্ধেকে নেমে এলো।  

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি আদেশ গতকাল পাওয়া গেছে, যদিও আদেশটি গত ২৬ ডিসেম্বর জারি করা হয়েছে।

নিবন্ধন ব্যয় কমানোর সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্ট্যাম্প ডিউটি কমানোয় সরকারকে ধন্যবাদ। তবে ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনে উচ্চ হারে কর-ভ্যাট আরোপ আছে। সেগুলোও কমানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। আমরা দ্রুত সেগুলো কমানোর বিষয়েও প্রজ্ঞাপন চাই।

জানা গেছে, ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনে এতদিন বিভিন্ন ধরনের কর, ভ্যাট ও ফি বাবদ মোট মূল্যের ১১ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এতে ১ কোটি টাকা মূল্যের কোনো ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এই উচ্চ ব্যয়ের কারণে ক্রেতারা নিবন্ধনে আগ্রহ হারান। এ অবস্থায় সরকার ফ্ল্যাট-প্লট নিবন্ধন ব্যয় কমানোসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গত বছর এনবিআর, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও রিহ্যাব সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে এনবিআর। কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। তাতে বিভিন্ন ধরনের কর-ভ্যাট কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। তাতে রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়।

গত মে মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিবন্ধন ব্যয় কমানোর এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ অনুমোদন করার পর গত জুনে বাজেট বক্তব্যেও কমানোর অঙ্গীকার করেছেন। তারপর ৬ মাস কেটে গেলেও এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন হচ্ছিল না। 

অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন করা কপিতে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি বিদ্যমান ২ থেকে ১ শতাংশ করার কথা বলা হয়। কমানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ চিঠির সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কপিও পাঠানো হয়। ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কর কমাতে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গত ২৯ মে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. মাজহারুল হক ভূঞা চিঠি পাঠান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে। তাতে সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত দলিল বা নিবন্ধনের সময় অন্যান্য করের সঙ্গে বিদ্যমান ২ শতাংশ স্থানীয় সরকার কর কমিয়ে ১ শতাংশে নামানোর অনুরোধ করা হয়।

ফিচার বিজ্ঞাপন

Sheraton Maldives Full Moon Resort 3D/2N

মূল্য: ৬৬,৯০০ টাকা

Kandy, Nuwara Eliya & Colombo 5D/4N

মূল্য: 30,900 Taka

Water Lodge

মূল্য: ১২,৫০০ টাকা / রাত

এ ছাড়া বিদ্যমান ৩ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণের অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানানো হয় এনবিআরের ভ্যাট নীতির সদস্যকে। কিন্তু এখনো কোনো সংস্থাই ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি করেনি।

সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর রিহ্যাব মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘নিবন্ধন ব্যয় কমানোর বিষয়ে আমি নিজে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) হয়ে গেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেটি উঠবে। নিবন্ধন ব্যয় নিয়ে সমস্যা থাকছে না।’ মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরপরই স্ট্যাম্প ডিউটি কমাল আইআরডি।

চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়ে বলেন, উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে দেশের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। খাতটির স্থবিরতার কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। এ কারণে সব ধরনের নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যৌক্তিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণের ফলে আবাসন খাতের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাড়বে সরকারের রাজস্ব। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতাও কমবে।

প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।



৩৯৮ বার পড়া হয়েছে