গুরুচন্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?

ক) শবপোড়া
ক) মড়াদাহ
গ) শবদাহ
ঘ) শবমড়া

ব্যাখ্যাঃ তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি হয়। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
শবপোড়া = শব (তৎসম শব্দ)+পোড়া(দেশী শব্দ)
মড়াদাহ = মড়া(দেশী শব্দ)+ দাহ(তৎসম শব্দ)
শবদাহ = শব(তৎসম শব্দ)+দাহ(তৎসম শব্দ)
শবমড়া = শব(তৎসম শব্দ)+মড়া(দেশী শব্দ)
অতএব খুব সহজেই বুঝা যাচ্ছে শবদাহ গুরুচন্ডালী দোষ মুক্ত।

বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডলী দোষ ঘটে। শবপোড়ার ক্ষেত্রে ‘শব’ সাধু ভাষা এবং ‘পোড়া’ চলিত ভাষা: মড়া দাহ – এর ক্ষেত্রে ‘মড়া চলিত ভাষা এবং ‘দাহ’ সাধু ভাষা; শবমড়া’র ক্ষেত্রে ‘শব’ সাধু ভাষা এবং ‘মড়া’ চলিত ভাষা।

গুরুচণ্ডালী দোষ দূষনীয় কেন:

●এক রীতির সাথে অন্য রীতি মিলিয়ে ফেললে ভাষা অসুন্দর হয়।

●একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ।

●ভাষারীতিতে ত্রুটি ঘটে

●সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে ভাষা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে কলুষিত হয়ে পড়ে।

তাই সাধু ও চলিতরীতির মিশ্রণ দূষণীয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এ জন্য উভয়রীতির মিশ্রণ পরিহার করা অবশ্যই কর্তব্য।

 এ ‘ গুরুচণ্ডালী ভাষাদোষে দুষ্ট হবার জন্যে বাংলা গদ্যের প্রথম পর্যায়ের কোনাে কোনাে গদ্য – লেখককেও বিদ্রুপ করে বলা হতাে ‘ শব – পােড়া মৱা – দাহে ‘ র দল ( শব – দাহ ‘ বা ‘ মরা – পােড়া ‘ না বলে ) । তাই , বাংলা গদ্যে বা রচনা এবং চলিত কথাবার্তায় এ দুই রীতির মিশ্রণ পুরােপুরিভাবে নিষিদ্ধ এবং দূষণীয় ও বর্জনীয়ও বটে ।

উদাহরন:

নিচে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট ভাষার একটি উদাহরণ লক্ষ করা যাক

☆“ ধরণীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলিয়া যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে । ”

 উল্লিখিত অশুদ্ধ বাক্যটিতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে তা গুরুচণ্ডালী ভাষা – দোষে দুষ্ট ।

 এ – বাক্যটির শুদ্ধ সাধু ও চলিত রূপ হবে নিম্নরূপ :

*সাধু রীতিতে সংশােধন :

ধরণীর মধ্যে যাহা সবচাইতে বড় জিনিস তাহা জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন হইতে । যেই দিন চলিয়া যাইবে সেই দিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করিবে ।

*চলিত রীতিতে রূপান্তর :

সাধু ও চলিত ভাষার ত্রুটিপূর্ণ মিশ্রণকে ‘ গুরুচণ্ডালী দোষ ’ বলে ।

ফিচার বিজ্ঞাপন

কালিজিরার তেল

মূল্য: ১৬০০ টাকা/কেজি

Manila 5D/4N

মূল্য: 49,900 Taka

 “ সাধু ভাষা ’ ও ‘ চলিত ভাষা বাংলা ভাষারই দুটো রীতি । এক রীতির সাথে অন্য রীতি মিলিয়ে ফেললে ভাষা অসুন্দর হয়, ভাষারীতিতে ত্রুটি ঘটে ,উভয়রীতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। তাই একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ। ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।

যেমন , যদি লিখি ‘ আমি শৰ পোড়াতে গিয়াছিলাম তাহলে ভুল হবে ; কেননা , ‘ শব ‘ সাধু রীতির শব্দ , গিয়াছিলাম ‘ ও তাই , অথচ ‘ পােড়াতে চলিত ভাষার রূপ । তাই লেখা উচিত ‘ আমি শব দাহ করিতে গিয়াছিলাম ‘ ( সাধু ভাষা ) , কিংবা ‘ আমি মড়া পােড়াইতে গিয়াছিলাম ‘ ( সাধু ভাষা ) কিংবা ‘ আমি মড়া পােড়াতে গিয়েছিলাম ‘ ( চলিত ভাষা ) । সাধু ও চলিত ভাষার ত্রুটিপূর্ণ মিশ্রণকে ‘ গুরুচণ্ডালী দোষ ’ বলে ।

গুরুচণ্ডালী দোষ দূষনীয় কেন:

●এক রীতির সাথে অন্য রীতি মিলিয়ে ফেললে ভাষা অসুন্দর হয়।

●একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ।

●ভাষারীতিতে ত্রুটি ঘটে

●সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে ভাষা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে কলুষিত হয়ে পড়ে।

তাই সাধু ও চলিতরীতির মিশ্রণ দূষণীয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এ জন্য উভয়রীতির মিশ্রণ পরিহার করা অবশ্যই কর্তব্য।

 এ ‘ গুরুচণ্ডালী ভাষাদোষে দুষ্ট হবার জন্যে বাংলা গদ্যের প্রথম পর্যায়ের কোনাে কোনাে গদ্য – লেখককেও বিদ্রুপ করে বলা হতাে ‘ শব – পােড়া মৱা – দাহে ‘ র দল ( শব – দাহ ‘ বা ‘ মরা – পােড়া ‘ না বলে ) । তাই , বাংলা গদ্যে বা রচনা এবং চলিত কথাবার্তায় এ দুই রীতির মিশ্রণ পুরােপুরিভাবে নিষিদ্ধ এবং দূষণীয় ও বর্জনীয়ও বটে ।

উদাহরন:

নিচে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট ভাষার একটি উদাহরণ লক্ষ করা যাক

☆“ ধরণীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলিয়া যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে । ”

 উল্লিখিত অশুদ্ধ বাক্যটিতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে তা গুরুচণ্ডালী ভাষা – দোষে দুষ্ট ।

 এ – বাক্যটির শুদ্ধ সাধু ও চলিত রূপ হবে নিম্নরূপ :

*সাধু রীতিতে সংশােধন :

ধরণীর মধ্যে যাহা সবচাইতে বড় জিনিস তাহা জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন হইতে । যেই দিন চলিয়া যাইবে সেই দিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করিবে ।

*চলিত রীতিতে রূপান্তর :

পৃথিবীর মাঝে যা সবচেয়ে বড় জিনিস তা জানবার ও বুঝবার প্রবণতা মানুষের মন থেকে । যেদিন চলে যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে ।

উত্তরঃ গ) শবদাহ



১৩৫ বার পড়া হয়েছে