করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর অনেকেই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর সেভাবে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না। এ ছাড়া টিকা নেওয়ার পর অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন না। মাস্ক ছাড়াই ঘরের বাইরে আসছেন। বাজারসহ জনসমাগম বেশি-এমন স্থানে অবাধে যাতায়াত করছেন। ফলে এদের অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে শুরু হয় গণটিকাদান কার্যক্রম। এরপর থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান চলছে। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে ৮৮৯ জনের শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি অধিদপ্তর।

এর আগে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পরও অসচেতনতায় ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খোরশেদ আলম জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সেখানে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। আক্রান্ত ১২ জনের সবাই টিকা নিয়েছিলেন।

টিকাদানের বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে নজরদারি করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিস। প্রতিদিন সারা দেশে যত টিকা দেওয়া হয় তার খালি ভায়াল, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ এমনকি এগুলোর প্যাকেট পর্যন্ত তারা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনার টিকাদান সম্পর্কিত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মো. মুহিবুল কাশেম। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে টিকা নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন। কিন্তু টিকা নেওয়ার ১২ দিন পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় তিনি। পরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘গত ৭ ফেব্রুয়ারি সচিব স্যারসহ আমরা জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টিকা নিই।’ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। লক্ষণ দেখা দেওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে নমুনা দেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ফলাফল পজিটিভ আসে।

করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ায় এক সপ্তাহ পর করোনায় আক্রান্ত হন জাতীয় হকি দলের কোচ মাহবুব হারুন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি টিকা নেন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা করে জানতে পারেন তিনি করোনা ‘পজিটিভ’। ফুসফুসে ৬৫ ভাগ সংক্রমণ হয়েছিল। এজন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

টিকা নেওয়ার এক মাস পর করোনায় আক্রান্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নেন। বেশ কিছুদিন সর্দি-কাশিতে ভোগার পর গত ১১ মার্চ ঢাবি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার পর সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিজ বাসভবনে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

ফিচার বিজ্ঞাপন

Moscow & St.Petersburg 5D/4N

মূল্য: 114,000 Taka

Singapore Tour with Universal Studios & Sentosa 5D/4N

মূল্য: ৩৮,৯০০ টাকা

জাকার্তা ও বালি ৭দিন ৬ রাত

মূল্য: ৩৩,০০০ টাকা

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে টিকা নিয়েছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। কিন্তু টিকা নেওয়ার পর সস্ত্রীক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। যুগান্তরকে বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেন। কাজী হায়াৎ বলেন, ২ মার্চ আমরা টিকা নিয়েছি। এরপর ৩, ৪ ও ৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। ৬ মার্চ সকাল থেকেই আমার জ্বর আসে। দুদিন অপেক্ষার পরও যখন জ্বর কমছে না, তখন ৮ মার্চ করোনা পরীক্ষা করি। আমার স্ত্রীরও করোনা পরীক্ষা করাতে দিই। ফলাফলে দেখা যায় আমরা দুজনই করোনায় আক্রান্ত। বর্তমানে স্ত্রীসহ তিনি নিজ বাসায়ই আইসোলেশনে আছেন।

মার্কিন সিডিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ করোনাভাইরাস সংক্রমণে রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় না। টিকা শুধু লক্ষণযুক্ত সংক্রমণ প্রতিরোধ করে কি না, তা-ই ট্রায়ালে দেখা হয়েছিল। এমনকি করোনার টিকা প্রস্তুতকারীরা টিকার শটগুলো রোগের লক্ষণযুক্ত ও লক্ষণবিহীন উভয় ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, সেটি নিশ্চিত করতে এখনো ট্রায়াল (মূল্যায়ন) চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, করোনার টিকা গ্রহণের পরই শতভাগ সুরক্ষিত ভাবার কারণ নেই।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, টিকা নেওয়া মানে স্বাস্থ্যবিধি না-মানা নয়। কারণ, প্রথম ডোজ নেওয়ার পর প্রতিরোধক্ষমতা সেভাবে তৈরি হয় না। আবার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও প্রতিরোধক্ষমতা কতদিন থাকবে, তাও কেউ জানেন না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।

Source: Jugantor

প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।



৩০৬ বার পড়া হয়েছে