রাজধানীর কাঁচাবাজারে গত তিন মাস ধরে সবজির বাজার চড়া। এর মধ্যে চলতি মাসে নতুন করে আরো দাম বেড়েছে। যেসব সবজি আগে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল, সেটা এখন ৬০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে। সবজির এমন চড়া বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে ডিম ও কাঁচামরিচের। আর হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া আলুর দাম নির্ধারণ করা হলেও এখনও ৫০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টির অজুহাতে গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহেও সব সবজির দাম বেড়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারগুলোয় অভিযান চালানোর পরও এক কেজি পিয়াজ কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকায়। একইভাবে আলুর দাম নির্ধারণ করলেও তা কিনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। খাদ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরু ও মাঝারি চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি।
এখনও প্রতি কেজি ভালো মানের মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা, মাঝারি চাল ৫২-৫৪ টাকা এবং সরু চাল ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির দাম কমতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা নতুন সবজি আবাদ শুরু করেছেন। ওই সবজি এলেই কেবল দাম কমতে পারে। সবজির মতো চাল, পিয়াজ ও আলুর দাম নির্ভর করছে নতুন মৌসুম ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। আর ভোজ্যতেলের দাম কমতে পারে কেবল বিশ্ববাজারে দর পড়তে শুরু করলে। ফলে শিগগিরই মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।
আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দাম বেঁধে দেয়া ও জরিমানার কৌশল তেমন একটা কাজ করছে না। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ৭ই অক্টোবর আলুর দাম প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বেঁধে দিয়ে তা কার্যকরের জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠায়। বাজারে নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাওরান বাজারের পাইকারি দোকানে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজিতে। অথচ পাইকারির জন্য নির্ধারিত দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা।
আলু নির্ধারিত দামে বিক্রি শুরু করতে হিমাগারগুলোতে তদারকি শুরু করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, তাদের ৩৯টি দল ৭৯টি বাজারে অভিযান চালিয়ে ৯৬টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। এর পরিমাণ মোট সাড়ে ৬ লাখ টাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে শীতের আগাম সবজি কিছু কিছু উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম অস্বাভাবিক বেশি। ব্যবসায়ীরা শিমের কেজি ১৬০ টাকা চাচ্ছেন। একেবারেই ছোট আকারের একেকটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা, যার ৩টি কিনলে এক বেলার এক পদ তরকারি রান্না করা সম্ভব।
এদিকে, ইলিশ ধরা বন্ধ হওয়ার পর বাজারে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে চাষের কই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৬০-১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। দুই কেজি আকারের রুই মাছের কেজি চাওয়া হয় ৩৫০ টাকা। চিংড়ি, বেলে, বোয়াল, চিতল, আইড়, বাইন ইত্যাদি মাছের প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মাছ বিক্রেতা আলম বলেন, ইলিশ ধরা বন্ধের পর বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বাজারে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। আর ৪০ থেকে ৫০ টাকা পোয়া (২৫০) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে কাঁচামরিচের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ফিচার বিজ্ঞাপন
Singapore Tour with Universal Studios & Sentosa 5D/4N
Dubai (City tour- Dhow cruise- Desert safari) 4D/3N
মিনি সিঙ্গাপুর ময়নামতি প্রাইভেট ডে লং ট্যুর
এদিকে শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও বরবটির সঙ্গে নতুন করে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে উস্তা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শুধু এই ৬ সবজি নয়, বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে মুলা ও পেঁপে। এর মধ্যে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
এদিকে দেশি পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা বড় আকারের ভারতীয় পিয়াজের কেজির জন্যেও গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। গত মাসে ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের বিষয়ে বাজারে আসা মমিন বলেন, বাজারে এসে মোটেও শান্তি পাই না। সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। ১০০ টাকার সবজি দিয়ে এক বেলাও হয় না। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই সবজির দাম চড়া। এর মধ্যেই তেল, চিনি, আলু, পিয়াজ ও ডিমের দাম বেড়ে গেল। আগে কখনো পুরাতন আলুর কেজি ৪০ টাকায় কিনে খাইনি। এখন পুরাতন আলুর কেজি ৪৫ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকা দিয়ে। ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।
কাওরানবাজারের সবজি ব্যবসায়ী সোলাইমান বলেন, বাজারে আগের তুলনায় শিম, গাজরের সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু অন্যান্য সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণে শীতের আগাম সবজি আসার পরও দাম কমছে না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, শীতের সবজি না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।
৪৩৬ বার পড়া হয়েছে





