ভারত ও চীনে গাড়ি বিক্রি হঠাত কমে যাওয়ার ধাক্কায় এ বছর বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রির পরিমাণ ৪ শতাংশ বা ৩১ লাখ কমে যেতে পারে, যদিও বছরের এক মাস এখনো বাকি আছে। সিএনএনের এক সংবাদে এই তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন কোম্পানি ফিচ রেটিংসের তথ্যানুসারে, বিক্রি এই হারে কমলে ২০০৮ সালের পর এ বছরই গাড়ি বিক্রি সবচেয়ে বেশি কমবে। আর গাড়ি বিক্রির পরিমাণ কমবে টানা দুই বছর। ফিচের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট গাড়ি বিক্রি হবে ৭ কোটি ৭৫ লাখ।
গাড়ি বিক্রি কমার প্রধান কারণ হিসেবে চীনে গাড়ি উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে এ বছর গাড়ি বিক্রি কমেছে ১১ শতাংশ। সঙ্গে আছে ভারতের বিক্রি পড়ে যাওয়া। বছরের শুরুতে বেইজিং বৈদ্যুতিক গাড়িতে ভর্তুকি কমিয়েছে। এতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি কমে যায়। ফিচের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান কৌল্টন বলেন, ‘২০২০ সালে চীনে গাড়ি বিক্রি ১ শতাংশ বাড়তে পারে, কিন্তু তাতেও বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রিতে বিশেষ প্রভাব পড়বে না’। তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো, বৈশ্বিক উৎপাদন খাতে গাড়ি বিক্রি বড় ধরনের প্রভাব রাখবে, বিশেষ করে জার্মানির মতো দেশে এই প্রভাব অনুভূত হবে’।
বস্তুত জার্মানি ইতিমধ্যে মন্দার দ্বারপ্রান্তে আছে। মঙ্গলবার জার্মানির গাড়ি কোম্পানি অডি ৭ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক উৎপাদনশীল খাতের ঘুরে দাঁড়ানো খুব সহজ হবে না।
তবে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে কিছুটা আলোর রেখাও দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর মাসে উৎপাদন খাতের সংকোচনের হার আগের মাসগুলোর চেয়ে কমে এসেছে, যদিও ছয় মাস ধরে এই সংকোচন চলছে।
মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ এ বছরের বাণিজ্য জগতের শীর্ষ খবর। বাণিজ্য যুদ্ধের ব্যাপারে যখন ভালো খবর এসেছে, তখন শেয়ার সূচক বেড়েছে, আবার যখন খারাপ খবর এসেছে, তখন সূচক পড়েছে। তবে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলে ২০২০ সালে বৈশ্বিক উৎপাদনশীল খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অবশ্য অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছে। ফেডারেল রিজার্ভসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আর্থিক বাজারকে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল করতে সুদের হার কমাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবেও দেখা গেছে, নিম্ন সুদের হার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল।
ফিচার বিজ্ঞাপন
Sheraton Maldives Full Moon Resort 3D/2N
সরবাটা ঘি ২৫০ গ্রাম
Kandy- Nuwara Eliya- Galle & Colombo 6D/5N
কিন্তু নতুন বাণিজ্য চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। এতে অনুকূল পরিস্থিতি ক্ষণে ক্ষণে প্রতিকূল হয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন চুক্তি দরকার।
বেইজিং ও ওয়াশিংটন অক্টোবর মাসে প্রাথমিক চুক্তির ব্যাপারে একমত হলেও চুক্তি এখন পর্যন্ত সই হয়নি। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত, এই প্রথম ধাপের ঐকমত্য শেষমেশ পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তির রূপ নেবে কি না। চুক্তি না হলে ১৫ ডিসেম্বর দুই দেশের নতুন করে শুল্ক আরোপের কথা। আর এবার তা আরোপ করা হবে ভোগ্য পণ্যে। তবে বড়দিনের কথা ভেবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ পিছিয়ে দিয়েছে।
এদিকে টানা ১১ মাস ভারতের বাজারে গাড়ি বিক্রি কমার পর অক্টোবর মাসে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি বেড়েছে। অর্থাৎ ভ্যান, ইউভি ইত্যাদি। তবে তা খুবই সামান্য, মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এতে ভারতের শিল্পমহলের একাংশ কিছুটা স্বস্তিতে আছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলই প্রশ্ন তুলছে, এটা ব্যবসার সঙ্কটমোচনের ইঙ্গিত কি না, কারণ, সার্বিক যাত্রীবাহী গাড়ি তো আগের মতো তৈরি হচ্ছে না। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এ বার উৎপাদন কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।
প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।
৬৩১ বার পড়া হয়েছে





