নুরেরচালা মসজিদ সড়কটি রাজধানীর ভাটারা এলাকায়। মসজিদ মার্কেট থেকে পূর্ব দিকে ভাটারা সাঈদ নগর পর্যন্ত এই সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬০০ মিটার। পুরো সড়কটি ডুবে আছে পয়োবর্জ্যমিশ্রিত নোংরা পানিতে। দুর্গন্ধযুক্ত ওই পানির রং কুচকুচে কালো।
এলাকাবাসী জানান, সমস্যাটি এক-দুই দিন কিংবা কয়েক মাসের নয়। টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এমন পচা-নোংরা পানিতে ডুবে আছে সড়কটি। বৃষ্টি না হলেও এখানে কমবেশি হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। আর বৃষ্টি হলে কোমরের ওপর ওঠে।
নুরেরচালা বাজারের মসজিদ মার্কেট মোড় থেকে এই সড়কের শুরু। এই অংশে দাঁড়িয়ে পূর্ব দিকে তাকালে যত দূর দৃষ্টি যায়, শুধু ময়লা পানি চোখে পড়ে। পানিতে ডুবে থাকা সড়ক দিয়ে যখন কোনো রিকশা কিংবা মোটরসাইকেল যায়, তখন রীতিমতো ঢেউ ওঠে। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অন্যান্য যান চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া যাঁরা হেঁটে চলাচল করেন, তাঁদের দুর্ভোগ আর ঝুঁকির শেষ নেই। পানি সরাতে উঠিয়ে রাখা হয়েছে কংক্রিটের স্ল্যাব। তাতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, হাঁটতে গিয়ে পথচারীরা প্রায়ই স্ল্যাবের গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। চলাচলের কষ্টের কারণে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বাসা নিচ্ছেন অনেক ভাড়াটে।
পূরবী প্রাঙ্গণ মোড় এলাকার বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ‘কষ্টের শেষ নাই, বাজান। এই ময়লা পানিতে কত মাইনষের রোগবালাই হইতাছে, কত মাইনষে গর্তে পইড়া হাত-পাও ভাঙছে, কাইটা গেছে, এই খবর কি মেয়র সাব রাখছে?’ আবদুল মতিন, পূরবী প্রাঙ্গণ মোড় এলাকার বাসিন্দা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নালাটি অনেক দিন আগের এবং অপেক্ষাকৃত সরু। ময়লা-আবর্জনা ও বালুমাটি জমে নালা ভরে গেছে। পানি চলাচল করতে পারে না। এই এলাকা যখন ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ছিল, তখন এই নালা নির্মাণ করা হয়েছিল। এলাকাটি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চার বছর কেটে গেলেও এখনো উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করা হয়নি।
নুরেরচালার স্থানীয় একটি বাড়ির মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করেনি সিটি করপোরেশন। অথচ দুবার নির্বাচন করে আমরা কাউন্সিলর ও মেয়র নির্বাচন করেছি। সড়কে পানি জমে থাকায় আমার অনেক ভাড়াটে বাসা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গেছে।’
ফিচার বিজ্ঞাপন
ট্যাক্স, ভ্যাট, BIDA, IRC & COMPANY REGISTRATION CONSULTANTS
Toyota Allion 2014 G Package
Cairo, Alexandria & Sharm El Sheikh 6D/5N
নুরেরচালা এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এই ওয়ার্ড উত্তর সিটির সঙ্গে যুক্ত হয়। এর সঙ্গে আরও ১৭টি ওয়ার্ড নতুনভাবে যুক্ত হয়। গত বছরের জুলাই মাসে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তবে এই টাকায় এখনো কোনো কাজ শুরু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।
ওয়ার্ডের এই এলাকাতেই বেশি জলাবদ্ধতা হয় জানিয়ে ডিএনসিসি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি এলেই আমার ঘুম আসে না। কারণ, এলাকাগুলো তলিয়ে যায়। তখন আমার বুক ধড়ফড় করা শুরু করে। এলাকাবাসী বিভিন্ন সমস্যা জানিয়ে ফোন করে। কিন্তু সেগুলোর সমাধান করতে পারছি না।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়রের দেওয়া ১০ লাখ টাকাও পাননি জানিয়ে কাউন্সিলর বলেন, মেয়র প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাজ হবে। কিন্তু কবে হবে, তা কেউ জানেন না। ওই টাকা পাওয়া গেলেও পয়োনিষ্কাশনের নালায় স্ল্যাব তৈরি করে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করা যেত।
ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী নভেম্বরে নতুন ওয়ার্ডগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু করা হবে। আর জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ করা ১০ লাখ টাকা পেতে কাউন্সিলরদের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পরিকল্পনা জমা না দিলে টাকা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।
২৭৬ বার পড়া হয়েছে





