ছুটির দিন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। উদ্দেশ্য ২টি। শহীদ মিনারে ফুল দেয়া এবং বেড়ান। শহীদ মিনার গেলাম, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফুল দিলাম। এরপর রওনা দিলাম পূর্বনির্ধারিত স্থানে। যেখানে সব বন্ধুর এক হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের টাইগার পাস মোড়ে বন্ধুরা আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আমার সব সময়ই একটু দেরি হয়। এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

৪ বান্ধবী এবং ৭ বন্ধু মিলে মোট এগারোজন একত্র হলাম টাইগার পাস মোড়ে। দুদিন আগেই এক বন্ধু গাড়ি রিজার্ভ করে রেখেছিল। ওই গাড়িও উপস্থিত। সবাই গাড়িতে চেপে বসলাম। গাড়িতে উঠার আগে এবং পরে সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত। আমিও কয়েকটা সেলফি নিলাম। এখন গন্তব্য একটাই, পারকির চর।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কিলো দূরে পারকি সমুদ্রসৈকত। চট্টগ্রামের দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সমুদ্রসৈকত। চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমি কিংবা বিমানবন্দর এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদী পেরোলেই পারকি চর। আমরাও আনন্দের সঙ্গে যাচ্ছি এ চরে। যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা। তবে রাস্তায় কিছুটা জ্যাম ছিল। তাই আমাদের বাড়তি কিছু সময় লেগেছিল।

এটা মূলত কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীর মোহনার পশ্চিম তীরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং পূর্ব-দক্ষিণ তীরে পারকি সমুদ্রসৈকত। চট্টগ্রাম সার কারখানা ও কাফকো যাওয়ার পথ ধরে এ সৈকতে যেতে হয়। এটি একটি উপকূলীয় সমুদ্রসৈকত।

একসময় বাংলাদেশে সমুদ্রসৈকত বলতে শুধু কক্সবাজার এবং পতেঙ্গা সৈকতকে মনে করা হলেও বর্তমানে পর্যটকদের কাছে পারকি সৈকত বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। যার কারণে আমাদেরও প্রাণ টানছিল যেতে। এবং সেই টানেই আমরা পৌঁছলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান পারকি চরে।

পারকি সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পথে দেখা মেলে অন্যরকম এক দৃশ্য। আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছোট ছোট পাহাড়, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিউএফল) এবং কাফকোর দৃশ্যও পর্যটকদের প্রাণ জুড়াবে।

বিচে ঢুকার পথে সরু রাস্তার দু’পাশে সারিসারি গাছ, সবুজ প্রান্তর আর মাছের ঘের দেখা যায়। বিচে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মতো অসংখ্য ঝাউগাছ আর ঝাউবনও রয়েছে। যা দেখে সত্যি মনে হচ্ছে আমি কক্সবাজারেই আছি।

পৌঁছেই প্রথমে আমরা ফুটবল নিয়ে খেলতে নামলাম বিচে। সাগরের পাড়ে ফুটবল খেলার কি আনন্দ সেটা নিশ্চয়ই সবার অজানা নয়। ফুটবল খেলে নামলাম সমুদ্রের তীরে। যেখানে অসংখ্য পর্যটক আনন্দে মেতে উঠেছে। আমরাও তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নেমেছি সমুদ্রে। পানির ঢেউ আর বন্ধুদের দুষ্টুমি এক অন্যরকম আনন্দের স্বর্গে নিয়ে গেছে আমায়। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল, আমি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখী।

এরপর গোসল করে সবাই একটা স্থানীয় হোটেলে বসলাম। ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম। স্থানীয় হোটেলের খাবারগুলো মোটামুটি ভালোই ছিল। ডাল, মাংস আর সবজি দিয়ে দুপুরের খাবার সারলাম সবাই। এরপর সবাই বিচের পাশে ঝাউ বাগান ঘুরছি। এখানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্যা ছাত্রছাত্রীরাও বেড়াতে এসেছে। শিক্ষাসফরের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। ওদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হচ্ছে। ওসব দেখছি।

আবার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে অনেকেই সময় কাটায়। সমুদ্রের পাশে গিয়ে অনেকেই সূর্যাস্ত দেখবে বলে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই পানির মধ্যে হাঁটছে। দেখে সত্যি মন জুড়িয়ে যায়। আমার কিছু বন্ধু আবার মোটরসাইকেলেও চড়ছে।

এখানে বিভিন্ন গাড়ি আছে। পর্যটকদের চড়ার জন্য এসব গাড়ি নিয়ে অনেকেই বসে থাকে। এভাবেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। সবাই গাড়িতে আবার উঠে গেলাম। মন চাইছে থেকে যেতে, তবে সেটা তো আর সম্ভব নয়। তাই ফিরে যেতে হচ্ছে। সবাই সেই টাইগারপাসে এসে নামলাম সন্ধ্যা ৭টায়। এরপর সবার নাস্তা করে বিদায় নিলাম। অন্য কোনোদিন অন্য কোনোখানে আবারও আমরা বেড়াতে যাব।

ফিচার বিজ্ঞাপন

Water Lodge

মূল্য: ১২,৫০০ টাকা / রাত

বেইজিং ও কুনমিং ৭ দিন ৬ রাত

মূল্য: ৮৪,৯০০ টাকা

কীভাবে যাবেন?

চট্টগ্রাম শহরের যে কোনো স্থান থেকেই বাস অথবা টেম্পোতে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু বা কর্ণফুলী সেতু ৩০ টাকা (সম্ভাব্য)। সেখান থেকে আনোয়ারার বটতলী মোহছেন আউলিয়ার মাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসে উঠবেন ৩০ টাকা। (এখানে বৈলতলী ও বটতলীর দুই রকম বাস ছাড়ে। আপনি অবশ্যই বটতলীর বাসে উঠবেন) বটতলীর মোহছেন আউলিয়া মাজারগামী বাসে উঠে হেল্পারকে বলতে হবে ‘সেন্টার’ নামক জায়গায়। সেন্টারে নেমে সিএনজি বা রিকশাযোগে যেতে পারেন পারকি সৈকত। ভাড়া ৩০ টাকা।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে যাওয়ার খরচ লোকাল ৯০ থেকে ১২০ টাকা।

তবে এখানে রিজার্ভ যাওয়া-আসা বেশি হয়। চট্টগ্রামের যে কোনো জায়গা থেকে রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে পারকি সৈকত আসতে পারবেন। এতে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হবে। এছাড়া বাস/মাইক্রো ইত্যাদি ভাড়া করলে ৬০০ থেকে ১৫০০-এর মধ্যে যেতে পারবেন।

থাকবেন কোথায়?

গত কয়েক বছরে প্রচুর পর্যটক আগমনের কারণে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে মোটেল। পারকি রিসোর্ট যার মধ্যে অন্যতম। পারকিতে রাত কাটাতে চাইলে স্থানীয় রিসোর্টেও উঠতে পারেন। তবে এসব অনেকের পছন্দসই নাও হতে পারে, তাই আপনি চট্টগ্রাম শহরে এসেও রাত যাপন করতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরে আছে বেশ নান্দনিক হোটেল এবং মোটেল।

খাবেন কোথায়?

পারকি সৈকতে খাবারের জন্য অনেক রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ছোট হোটেল ছাড়াও আছে জনপ্রিয় কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। এছাড়াও লোকজন বেশি আসে। তাই চাইলে যাওয়ার আগেই টিম বা ফ্যামিলির জন্য এ রেস্টুরেন্টে অগ্রিম খাবার বুকিং দিতে পারেন। এছাড়াও পিকনিক কিংবা শিক্ষাসফরে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।

Source: Juantor

প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।

কুইক সেল অফার

অবিশ্বাস্য দামে ব্রান্ডের ঘড়ির কিনুন

অবিশ্বাস্য দামে ব্রান্ডের ঘড়ির কিনু...



৩৭১ বার পড়া হয়েছে