প্রত্যাশিত গড় আয়ু, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু, মোট প্রজনন হারের (টিএফআর) মতো স্বাস্থ্যসূচকে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ৫০ বছরে পুষ্টির বিভিন্ন সূচকেও বাংলাদেশ দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নতি করেছে। তবে পুষ্টিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পুষ্টিতে দেশের উন্নতি হলেও সব সময় ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি।
স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতা ও ওজন বেড়েছে। এই সময়ে কৃশকায় শিশুর হারও কমেছে। পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহে এই চিত্র পরিষ্কার হতে দেখা যায়। যেমন ১৯৯৬–৯৭ সালের স্বাস্থ্য ও জনমিতি জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ শিশু ছিল খর্বাকৃতির অর্থাৎ তাদের উচ্চতা ছিল বয়সের তুলনায় কম। সর্বশেষ ২০১৭–১৮ সালের জরিপে এই হার ৩১ শতাংশ। ১৯৯৬-৯৭ সালে একই বয়সের কম ওজনের শিশু ছিল ৫২ শতাংশ, এখন তা ২২ শতাংশ।

শিশু ও নারীদের রক্তস্বল্পতা অনুপুষ্টিকণার সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। একসময় রক্তস্বল্পতাকে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৯৯০ সালে গর্ভবতী নারীদের ৫৫ শতাংশ এই সমস্যায় ভুগত। তখন পাঁচ বছরের কম বয়সী ৭৩ শতাংশ শিশুর এই সমস্যা ছিল। ২০১৬ সালে নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে এই হার কমে যথাক্রমে ৪৬ ও ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। এখন তা আরও কমেছে। স্বাধীনতার পরপর দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে রাতকানা রোগের প্রকোপ ছিল। কিন্তু এখন সেই সমস্যা আর নেই বললেই চলে।
রাষ্ট্রীয় নীতিতে পুষ্টি: পুষ্টির ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব হয়েছে স্বাধীন দেশে স্বাধীন নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। সংবিধান প্রণেতারা গুরুত্ব বিবেচনা করে পুষ্টির ব্যাপারে রাষ্ট্রের কর্তব্যকে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির মধ্যে রেখেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণনা করা আছে। সেখানে ১৮ (১) ধারায় বলা আছে: ‘জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন…।’ রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবর্তনসহ নানা সময়ে সংবিধান কাটাছেঁড়া করা হলেও পুষ্টির জায়গাটিতে কেউ হাত দেননি। এটা পুষ্টির ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুষ্টিসংক্রান্ত কর্মসূচি বিষয়ে নীতি ও কৌশল তৈরির জন্য সরকার ১৯৭৪ সালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এই পরিষদের প্রধান।
জাতীয় পুষ্টি সেবা কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর এস এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতিতে বড় অবদান আছে খাদ্য ও কৃষি খাতের। দেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, খাদ্যে বৈচিত্র্য এসেছে, খাদ্যের সরবরাহ বেড়েছে। মানসম্পন্ন ও সুষম খাদ্যের প্রাপ্যতা বেড়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে মানুষের সচেতনতাও বেড়েছে।’
২০১৫ সালে জাতীয় পুষ্টিনীতি অনুমোদিত হয়। এর আগে আরও কিছু নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি পুষ্টিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছিল। এর মধ্যে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিনীতি, জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশ সমন্বিত পুষ্টি প্রকল্প এবং জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। অতীতে ও বর্তমানে সরকারের পুষ্টিকাজে সহায়তা করেছে ও করছে দেশের ছোট-বড় অনেক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা।
ফিচার বিজ্ঞাপন
শ্রীলংকা ভিসা (চাকুরীজীবী)
থাইল্যান্ড ভিসা (বিজনেসম্যান)
চায়না ভিসা (বিজনেসম্যান)
প্রায় এক দশক ধরে সরকার পুষ্টি সেবাকে স্বাস্থ্যসেবার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছে। অন্যদিকে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, পুষ্টির উন্নতি করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার কাজ হওয়া উচিত নয়। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেন, পুষ্টির উন্নতিতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়োব্যবস্থার বড় ভূমিকা আছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়োব্যবস্থার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। পুষ্টিবিদেরা পুষ্টির কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, খাদ্য, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, তথ্যসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয়কে কার্যকরভাবে যুক্ত করার কথা বেশ কয়েক বছর ধরে বলে আসছেন। সরকার এখন দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে (২০১৬-২০২৫)। একই সঙ্গে চলছে পুষ্টি সেবা কর্মসূচি।
সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে বর্তমানে দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামান ‘এ’ খাওয়ানোর হার ৯৫ শতাংশের বেশি। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ ছাড়া ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী ৩৪ শতাংশ শিশু পরিপূরক খাবার পায়। পর্যাপ্ত ক্যালরি পায় জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশের বেশি। এর ফলে দেশে সার্বিকভাবে শিশু পুষ্টি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নারী পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
সব শিশুর উচ্চতা–ওজন সমান হোক: তবে পুষ্টির ক্ষেত্রে নীতি ও পরিকল্পনায় অনেক কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার বেশ কিছু অভিযোগ শোনা যায়। পুষ্টি নিয়ে বড় ধরনের কোনো নাগরিক আন্দোলনও গড়ে ওঠেনি বা চোখে পড়ে না। সব শিশু সমান উচ্চতা ও সমান ওজনের হোক, সব মানুষ সুষম খাদ্য পাক—এই দাবি কেউ তুলছে না।
পুষ্টিবিজ্ঞানী এস কে রায় বলেন, ‘পুষ্টির কয়েকটি সূচকে আমরা প্রতিবেশী দু-একটি দেশ বা আফ্রিকার কয়েকটি দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছি। ৫০ বছর সময়ের তুলনায় আমাদের অগ্রগতি হয়েছে ধীরগতিতে। এ গতি বাড়াতে হবে। এ জন্য দরকার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা, ব্যাপক বরাদ্দ এবং সারা দেশে পুষ্টিবিদ নিয়োগ।’
প্রাসঙ্গিক কথাঃ “ঢাকা বৃত্তান্ত”প্রচলিত অর্থে কোন সংবাদ মাধ্যম বা অনলাইন নিউজ সাইট নয়। এখানে প্রকাশিত কোন ফিচারের সাথে সংবাদ মাধ্যমের মিল খুঁজে পেলে সেটি শুধুই কাকতাল মাত্র। এখানে থাকা সকল তথ্য ফিচার কেন্দ্রীক ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। “ঢাকায় থাকি”কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এসব তথ্য একত্রিত করার ফলে তা ঢাকাবাসীকে সাহায্য করছে ও করবে। আসুন সবাই আমাদের এই প্রিয় ঢাকা শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আমরা সবাই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।
কুইক সেল অফার
পূর্বাচল আমেরিকান সিটি | জীবনের সমস্ত আয়োজন এখানে অপেক্ষা করছেপূর্বাচল আমেরিকান সিটি | জীবনের সমস্ত ...
২৯১ বার পড়া হয়েছে





