বর্ষাকাল গাছের জন্য আশীর্বাদ, আবার অভিশাপও বটে। আকাশ যখন অঝোরে কাঁদে, তখন সেই কান্নার পানি যদি আপনার টবে জমে থাকে, তবে আপনার প্রিয় গাছটি অচিরেই মারা যাবে।

১. টবের দূরত্ব: ছাদের টবগুলোকে দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রতিটি টবের মাঝে ফাঁকা জায়গা রাখুন যেন বাতাস খেলতে পারে। আর হ্যাঁ, ছাদের নর্দমার মুখটা পরিষ্কার রাখুন। ঝরা পাতায় নর্দমা বন্ধ হয়ে গেলে ছাদটা একটা ছোটখাটো পুকুর হয়ে যাবে, যা আপনার বাড়ির জন্য মোটেও ভালো খবর নয়।
২. পানির নিষ্কাশন: টবের নিচে যে ছিদ্র থাকে, সেটা মাটি জমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। বৃষ্টির পর যদি দেখেন টবে পানি জমে আছে, তবে দেরি না করে সেই পানি ফেলে দিন। মাঝেমধ্যে টবের মাটি একটু খুঁচিয়ে আলগা করে দেবেন, যেন মাটি ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারে।
৩. সারের প্রয়োজন নেই: বর্ষাকালে মাটিকে খুব বেশি বিরক্ত করবেন না। এই সময়ে সারের প্রয়োজন হয় না। সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গাছ যখন বর্ষার পানি পেয়ে নিজেই টগবগ করে বাড়ছে, তখন বাড়তি সারের দরকার কী?
৪. হলুদ পাতা আর বালুর গল্প: যদি দেখেন গাছের পাতা হলুদ হয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে, তবে বুঝবেন বেচারা পানির নিচে দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। মাটির সঙ্গে কিছুটা বালি মিশিয়ে দিন, এতে পানি দ্রুত বেরিয়ে যাবে।
৫. পোকার আক্রমণ ও নিমতেল: বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ছত্রাক আর পোকারা খুব আনন্দ পায়। কোনো গাছে পোকা দেখলে তাকে তৎক্ষণাৎ অন্য গাছ থেকে সরিয়ে নিন—ঠিক যেমন অসুস্থ মানুষকে আমরা আলাদা রাখি। এরপর পানির সঙ্গে সামান্য নিমতেল মিশিয়ে স্প্রে করুন। পোকারা আপনার গাছ থেকে দূরে থাকবে।

শেষ কথা

জীবনটা বড়ই বিচিত্র। আমরা ছোট ঘরে থাকি ঠিকই, কিন্তু আমাদের স্বপ্নগুলো অনেক বড়। সেই স্বপ্নের ঘরটাকে একটু মায়া দিয়ে সাজান, আর আপনার ছাদের অবলা গাছগুলোকে একটু ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখুন।

বাইরে বৃষ্টি বাড়ছে। জানালার ওপাশে হয়তো একটা নীল রঙের শাড়ি পরা মেঘবালিকা দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে তাকিয়ে হাসুন। জীবনটা কিন্তু খুব একটা মন্দ নয়!

শুভ গৃহসজ্জা, শুভ বাগান বিলাস!