‘ফাউল’ না করে ঝগড়া করবেন কীভাবে?

বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। এমন দিনে জানালার পাশে বসে এক কাপ কড়া লিকারের চা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে থাকা যায়, আবার কোনো একটা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়াও শুরু করা যায়। মানুষ বড়ই বিচিত্র প্রাণী; সে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি ঝগড়া করে। কিন্তু মুশকিল হলো, আমরা ঝগড়া করতে গিয়ে প্রায়ই ‘ফাউল’ করে বসি। অথচ ঝগড়া হতে পারতো একটি শিল্প।

কাপল থেরাপিস্টরা (যাঁদের কাজই হলো মানুষের হাহাকার শোনা) বলছেন, ঝগড়া করলে সম্পর্ক নষ্ট হয় না, বরং নিয়ম মেনে ঝগড়া করলে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই নিয়মগুলো অনেকটা এইরকম-

১. সময় স্থান নির্বাচন: হুট করে মেজাজ খারাপ হলো আর চিৎকার শুরু করে দিলেন- সেটা কোনো কাজের কথা না। ঝগড়া করার জন্যও একটা প্রস্তুতি দরকার। দুজনে মিলে একটা সময় ঠিক করুন। বড় কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার আগে হাতে এক কাপ কফি আর কিছু স্ন্যাকস রাখুন। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ঝগড়া করাটা বেশ অভিজাত একটা ব্যাপার।

২. আদালতের নিয়ম: ঝগড়ার আগে দুজনে মিলে একটা অলিখিত চুক্তিতে সই করুন। গালিগালাজ করা যাবে না, একে অপরকে ছোট করে কথা বলা যাবে না এবং কোনোভাবেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করা চলবে না।

৩. কণ্ঠস্বরের ওঠানামা: রাগলে মানুষের গলার স্বর সপ্তমে চড়ে যায়। কাপল থেরাপিস্টরা বলছেন- কণ্ঠস্বর নরম রাখুন, কথা বলুন ধীরে। চিৎকার করলে শব্দ বেশি হয় ঠিকই, কিন্তু সারকথা কেউ শুনতে পায় না।

৪. অনুসন্ধানী হোন: ‘তুমি এটা কেন করলে?’- এভাবে জেরা না করে জিজ্ঞাসা করুন, ‘তুমি তখন কী ভাবছিলে?’ বিচারকের চেয়ে বড় কোনো গোয়েন্দা বা অনুসন্ধানী হওয়া অনেক বেশি রোমাঞ্চকর। কৌতূহল মানুষকে কাছাকাছি আনে।

৫. অনুভূতির প্রকাশ: ‘আমি খুব রেগে আছি’ না বলে বলতে পারেন, ‘তোমার ওই কথায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।’ যুক্তি দিয়ে নিজের দুঃখটা বোঝান। রাগ মানুষের মনকে শক্ত করে, আর বিষণ্ণতা মনকে নরম করে।

৬. আসল জট খোলা: ঝগড়াটা হয়তো শুরু হয়েছে তরকারিতে লবণের পরিমাণ নিয়ে, কিন্তু এর মূলে হয়তো লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের অবহেলা কিংবা অনাদর। আসল সমস্যাটা খুঁজে বের করুন। জট না খুললে সুতো কখনো সোজা হয় না।

৭. স্পর্শের ম্যাজিক: ঝগড়ার মাঝখানে হঠাৎ সঙ্গীর হাত ধরা কিংবা কাঁধে হাত রাখা একটা অদ্ভুত শক্তিশালী কাজ। সামান্য এক স্পর্শে বড় বড় সংঘাত বরফের মতো গলে যেতে পারে।

৮. পাশাপাশি বসা: চোখে চোখ রেখে কথা বলতে গেলে মেজাজ আরও বিগড়ে যেতে পারে। তার চেয়ে বরং বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে ঝগড়া করুন। কিংবা দুজন দুদিকে মুখ করে পাশাপাশি বসে কথা বলুন। পাশাপাশি বসে কথা বললে মন খুলে বলা সহজ হয়।

৯. বিরতি নেওয়া: আলোচনা যখন তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন খানিকক্ষণের বিরতি নিন। কোনো একজন বারান্দায় গিয়ে একা একা কিছুক্ষণ বসে থাকুন কিংবা বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। তবে মনে রাখবেন- ফিরে অবশ্যই আসতে হবে। পালিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়।

১০. কান পেতে শোনা: উত্তর দেওয়ার জন্য কথা শুনবেন না, বরং বোঝার জন্য শুনুন। সঙ্গীর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঝপথে বাগড়া দেবেন না। শোনাও এক ধরণের প্রার্থনা।

১১. পুরোনো অভ্যাস বদলানো: কেউ ঝগড়ার সময় গুম মেরে থাকেন, কেউ আবার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করেন। এই পুরোনো অভ্যাসগুলো পাল্টে একটু খোলামেলা ভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। বিচিত্র এই দুনিয়ায় নিজেকে একটু বদলে নেওয়াটা মন্দ কী!

১২. একই দলে শেষ করা: দিনের শেষে যখন ঝগড়াটা ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন একে অপরকে মনে করিয়ে দিন-  ‘আমরা দুজন আসলে একপক্ষ, আর সমস্যাটা অন্যপক্ষ।’ সব সমস্যার সমাধান একদিনে হবে না। আজ রাতটা বরং শান্তির হোক, কাল না হয় আবার কথা বলা যাবে।

পরিশেষ:
ঝগড়া শেষে যদি দুজন মানুষের সম্মান আর ভালোবাসা অটুট থাকে, তবেই সেই ঝগড়া সার্থক। দিনশেষে আপনি একা নন, আপনার সঙ্গে আরও একজন মানুষ আছে- এই বোধটাই বড় চমৎকার। বৃষ্টির রাতটা ঝগড়া দিয়ে শুরু হলেও শেষটা যেন একটা স্নিগ্ধ আলিঙ্গন আর গরম চায়ের কাপেই হয়।

মানুষ বড়ই একা, আর সেই একলা জীবনে একজন মনের মতো ঝগড়া করার মানুষ পাওয়াও তো পরম ভাগ্যের ব্যাপার!

ধনীদের ৮টি অভ্যাস, যা মধ্যবিত্তদের চোখে ধরা পড়ে না

মকবুল সাহেব চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন। তাঁর ধারণা, ধনী হওয়া মানেই হলো জবরজং পোশাক পরা, গলায় সোনার চেইন ঝোলানো আর দিনরাত টাকার ওপর শুয়ে থাকা। কিন্তু কাগজে যা পড়ছেন, তাতে তাঁর আক্কেল গুড়ুম হওয়ার দশা। দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত ধনীরা আসলে অন্য ধাতুতে গড়া। তাদের এমন কিছু অভ্যাস আছে যা আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্তের মাথায় সহজে ঢুকবে না।

আশ্চর্য সেই অভ্যাসগুলোর ফিরিস্তি অনেকটা এরকম:

. সম্পদের মোহ, জিনিসের নয়
আমরা মধ্যবিত্তরা টাকা জমলে ভাবি একটা নতুন মডেলের গাড়ি কিনব কিংবা বসার ঘরের পর্দাটা পাল্টাব। কিন্তু ধনীরা এসব সাজসজ্জার ধার ধারে না। তারা টাকা জমলে খোঁজেন ‘সম্পদ’। অর্থাৎ এমন কিছু যা তাকে ভবিষ্যতে আরও টাকা এনে দেবে- হয়তো শেয়ারবাজারের অংশীদারিত্ব কিংবা এক টুকরো জমি। তারা জিনিস কেনেন না, তারা আসলে টাকা বানানোর মেশিন কেনেন।

. দাবার চাল এবং টাকার খেলা
মকবুল সাহেবের কাছে ব্যাংক মানেই হলো পরম নিরাপদ এক আশ্রয়, যেখানে ফিক্সড ডিপোজিট করে তিনি শান্তিতে ঘুমান। কিন্তু ধনীরা টাকাকে দেখেন দাবার চাল হিসেবে। তারা ঝুঁকি নেন, বাজারের নতুন চাল শেখেন। কোনো চালে হেরে গেলে তারা মুষড়ে পড়েন না, বরং ভাবেন- পরের চালটা কীভাবে দিলে মাত করা যাবে। ব্যর্থতা তাদের কাছে কোনো শেষ নয়, বরং এক নতুন পাঠ।

. জ্ঞানের কদর এবং কোচের প্রয়োজনীয়তা
মধ্যবিত্তের কাছে কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বা কোচ ভাড়া করা মানেই বিলাসিতা। অথচ ধনীরা মনে করেন, এটাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তারা জানেন, একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ তাদের ভুল হওয়া থেকে বাঁচাবে এবং হাজার ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করবে। সময় বাঁচানো মানেই তো টাকা বাঁচানো।

. সময় যখন পরম সম্পদ
টাকার চেয়ে সময়ের মূল্য ধনীদের কাছে অনেক বেশি। মকবুল সাহেব হয়তো দুই টাকা বাঁচানোর জন্য আধা ঘণ্টা হেঁটে পাশের বাজারে যান, কিন্তু ধনীরা টাকা দিয়ে সময় কেনেন। তারা বাড়ির কাজের জন্য লোক রাখেন, এমনকি প্রয়োজনে প্রাইভেট ফ্লাইটে চড়েন- স্রেফ সময় বাঁচাতে। কারণ তারা জানেন, টাকা হারিয়ে গেলে আবার পাওয়া যাবে, কিন্তু এক সেকেন্ড সময় চলে গেলে তা আর কোনো দিন ফেরার নামগন্ধও করবে না।

. খাবার টেবিলে টাকার আলাপ
আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে শিশুদের সামনে টাকা নিয়ে আলাপ করা প্রায় ‘নিষিদ্ধ’। মনে করা হয়, ছোটদের এসবে না থাকাই ভালো। কিন্তু ধনীরা ঠিক উল্টো। তারা খাবার টেবিলে স্বামী-স্ত্রী মিলে বাজেট ঠিক করেন, সন্তানদের সঙ্গে অর্থ ও সঞ্চয় নিয়ে গল্প করেন। তাদের ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই বুঝতে শেখে যে টাকা কোনো জাদুমন্ত্র নয়, এটা একটা বিজ্ঞানের মতো।

. নিজের ওপর বিনিয়োগ
একজন ধনী মানুষ দুই দিনের এক কর্মশালায় লাখ টাকা খরচ করতে পিছপা হন না। মধ্যবিত্তের চোখে এটা স্রেফ পাগলামি মনে হতে পারে, কিন্তু ধনীরা জানেন- একটা নতুন আইডিয়া বা একটা ভালো সম্পর্ক ভবিষ্যতে তাকে কোটি টাকা এনে দিতে পারে। বই পড়া, নতুন কোর্স করা কিংবা সেমিনারে যাওয়া তাদের কাছে এক ধরণের অদৃশ্য সম্পদ।

. সাধারণ পোশাক অসাধারণ মুক্তি
আমরা মনে করি, দামি পোশাক না পরলে মান-সম্মান থাকবে না। অথচ আসল ধনীদের দেখা যায় সাধারণ টি-শার্ট কিংবা পুরোনো মডেলেল গাড়িতে। তারা জানেন, আসল মর্যাদা লৌকিকতায় নয়, আসল মর্যাদা হলো ‘স্বাধীনতা’য়। আমি কোথায় থাকব, কার সঙ্গে সময় কাটাব আর কী কাজ করব- এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই হলো তাদের আসল ঐশ্বর্য।

. প্রজন্মের ভাবনা
মকবুল সাহেব বড়জোর নিজের রিটায়ারমেন্ট বা মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ধনীদের ভাবনা চলে যায় আগামী কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত। তারা ট্রাস্ট গঠন করেন, পারিবারিক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেন। তারা শুধু নিজের জন্য নয়, তাদের নাতি-পুতিদের জন্যও এক মজবুত ভিত্তি দিয়ে যেতে চান।

পরিশেষ
খবরটা পড়ে মকবুল সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি বুঝলেন, ধনী হওয়াটা আসলে পকেটের অবস্থার চেয়ে মনের অবস্থার ওপর বেশি নির্ভর করে। আপনি কীভাবে চিন্তা করছেন, সময়কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন আর টাকা দিয়ে টাকা বানানোর সাহস দেখাচ্ছেন কি না- তার ওপরই নির্ভর করছে আপনার ভবিষ্যৎ।

ঢাকা শহরের আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি নামবে বোধ হয়। মকবুল সাহেব ভাবলেন, আজ থেকে জমানোর চেয়ে বিনিয়োগ করার কথা ভাবলে কেমন হয়? বিচিত্র এই জগত, আর বিচিত্র মানুষের চিন্তাভাবনা!

সম্পর্ক গোপন রাখলে কি ঘনিষ্ঠতা বাড়ে

আজকালকার দুনিয়াটা বড়ই অদ্ভুত। এখন মানুষ কোথাও খেতে গেলে আগে সেই খাবারের ছবি তোলে, তারপর তৃপ্তি করে খায়। কোথাও ঘুরতে গেলে আগে চেক-ইন দেয়, তারপর চারপাশের প্রকৃতি দেখে। এমনকি ভালোবাসার মতো অতি ব্যক্তিগত বিষয়টিও এখন আর ব্যক্তিগত নেই। ডিজিটাল স্ক্রিনে যদি প্রিয়জনের সঙ্গে দাঁত বের করা একটা ছবি না থাকল, তবে নাকি সেই ভালোবাসা ঠিক ‘অকৃত্রিম’ হয় না। জেনারেশন জেড বা পরবর্তী প্রজন্ম একে বলছে ‘রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস’।

কিন্তু গবেষকরা বলছেন এক অন্যরকম কথা। তাঁরা মিকি মাউস কিংবা হিমুর মতো কোনো রহস্যময় চরিত্র নন, রক্ত-মাংসের মানুষ। তাঁদের গবেষণা বলছে- যারা নিজেদের সম্পর্কের কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানায় না, তারাই আসলে বেশি সুখী। বিচিত্র ব্যাপার, তাই না?

কেন গোপন থাকলেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে?

মানুষের মন বড়ই জটিল। গবেষকরা বলছেন, সুখী দম্পতিরা বাইরের মানুষের হাততালির জন্য অপেক্ষা করেন না। তারা যখন একে অপরের চোখে চোখ রেখে নিভৃতে এক কাপ চা খান, তখন সেই মুহূর্তটি তারা মন দিয়ে উপভোগ করেন। তাদের মাথায় এটা ঘোরে না যে-  ‘চায়ের কাপের সঙ্গে আমাদের একটি সুন্দর ছবি তোলা দরকার, যা দেখে ফেসবুকে তেরোশ মানুষ ‘ওয়াও’ রিঅ্যাক্ট দেবে।’ যখন আপনি দেখানোর চেয়ে দেখার দিকে বেশি মনোযোগ দেন, তখনই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে।

পারফেক্ট হওয়ার নেশা এবং এক চিলতে হাহাকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো একটা মস্ত বড় আয়না, তবে সেই আয়নায় মানুষ শুধু তার সুন্দর মুখটাই দেখে। কেউ তার ঝগড়া, মান-অভিমান কিংবা চোখের জলের ছবি পোস্ট করে না। সবাই দেয় তার সেরা মুহূর্তের সেরা ছবি। ফলাফল কী হয়? আপনি যখন অন্য দম্পতির হাসিখুশি ফিল্টার করা ছবি দেখেন, তখন নিজের অজান্তেই আপনার অবচেতন মন আপনার সম্পর্কের সঙ্গে তাদের তুলনা শুরু করে।

আপনি হয়তো ভাবছেন, ‘আহা, ওরা কত সুখে আছে, সারাদিন ঘুরে বেড়াচ্ছে! আর আমি ঘরে বসে জিপিএ-ফাইভ পাওয়া বাচ্চার পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত!’ এই যে তুলনা, এটাই হলো অসুখী হওয়ার প্রথম ধাপ। যারা ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখেন, তাদের এই ‘পারফেক্ট’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে হয় না।

গোপনীয়তার সুফল

সম্পর্ক যখন শুধু দুজনের থাকে, তখন সেখানে বাইরের মানুষের অনধিকার প্রবেশ থাকে না। আপনি যখন খুব শখ করে একটা ছবি পোস্ট করলেন, তখন একদল মানুষ প্রশংসা করবে ঠিকই, কিন্তু দু-একজন সূক্ষ্ম কোনো খুঁত বের করে দেবে। হয়তো কেউ বলল, ‘তোমাকে কিন্তু খুব একটা মানাচ্ছে না!’ এই সামান্য এক ফোঁটা বিষ আপনার সারাদিনের আনন্দ মাটি করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মনোযোগের পরিবর্তন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর নেশায় আমরা একে অপরকে সময় দেওয়ার বদলে ফোনের ক্যামেরাকে সময় দিই বেশি। সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর চেয়ে সুন্দর ছবি তোলাই তখন প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্ক যে আপনাদের দুজনের একান্ত গোপন বাগান, সেই বোধটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।

তবে কি কাউকে জানাব না?

ব্যাপারটি মোটেও তেমন নয়। আপনি আপনার প্রিয় মানুষের সঙ্গে ছবি দিতেই পারেন, সেটা কোনো অপরাধ নয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে- সেই ‘শেয়ার’ যেন আপনার সম্পর্কের ওপর ছড়ি না ঘোরায়। মানুষের মন্তব্যের চেয়ে নিজের মনের অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শেষে একটা কথা বলি। রবীন্দ্রনাথ অনেক আগে বলে গেছেন-  ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে’। কিন্তু বর্তমান যুগে গবেষকরা উল্টোটা বলছেন। সম্পর্কের গভীরতা ধরে রাখতে হলে সব কথা আর সব ছবি ফেসবুকে না বলাই ভালো। কিছু কথা শুধু দুজনের থাকুক। গোপন দীর্ঘশ্বাস আর গোপন ভালোবাসা- এর মধ্যে যে তীব্র এক মায়া আছে, তা ডিজিটাল স্ক্রিনের হাজার হাজার লাইক দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

মানুষ বড়ই একা, আর সেই একলা জীবনে একজন মনের মতো মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সেই ভাগ্যকে ফেসবুকের দেয়ালের চেয়ে নিজের মনের মণিকোঠায় বেশি যত্ন করে রাখাটাই বোধ হয় শ্রেয়।

সঞ্চয় করতে চান? জাপানি পদ্ধতি কাকেবো মেনে চলুন

আজ মাসের আঠাশ তারিখ। মকবুল সাহেব বিমর্ষ মুখে বারান্দায় বসে আছেন। তাঁর হাতে এক কাপ লিকার চা, যেটাতে চিনির পরিমাণ খুব কম। চিনির দাম বেড়েছে কি না তিনি জানেন না, তবে তাঁর পকেটের অবস্থা যে সুবিধের নয়, সেটা তিনি ঠিকই টের পাচ্ছেন। মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন – এই মাসে অন্তত দু-এক হাজার টাকা জমিয়ে ফেলবেন। অথচ আজ মানিব্যাগ খুলে দেখলেন, সেখানে কয়েকটা খুচরো পয়সা আর একটা পুরোনো রসিদ ছাড়া আর কিছুই নেই।

টাকাগুলো কোথায় গেল? তিনি কি খুব বিলাসিতা করেছেন? না। তিনি কি দামী কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়েছেন? তাও না। অথচ টাকাগুলো কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। ঠিক এই মুহূর্তেই আমাদের দরকার এক চিলতে জাপানি জাদু। যার নাম – ‘কাকেবো’।

কাকেবো (Kakeibo) শব্দটা শুনতে একটু রহস্যময় লাগলেও এর অর্থ খুব সহজ – ‘পরিবারের হিসাবের খাতা’। ১৯০৪ সালে হানি মোতোকো নামের এক জাপানি নারী সাংবাদিক এই পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন। তিনি জানতেন, মধ্যবিত্তের পকেটে ফুটো থাকে। সেই ফুটো বন্ধ করার দাওয়াই হলো এই কাকেবো।

কাকেবো জাদুর মূল মন্ত্র
আমরা সাধারণত ভাবি—মাস শেষে সব খরচ করার পর যা থাকবে, তা-ই জমাব। হানি মোতোকো বলছেন, এই ভাবনাটাই ভুল। কাকেবো বলে—বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই আগে সঞ্চয়ের টাকাটা সরিয়ে ফেলুন। তারপর যা থাকবে, সেটা দিয়েই মাস চালান।

ধরুন, আপনার আয় ৩০ হাজার টাকা। আপনি ঠিক করলেন ৩ হাজার টাকা জমাবেন। বেতন পাওয়ার পর আপনার প্রথম কাজ হলো ওই ৩ হাজার টাকা আলাদা করে আলমারির নিচে লুকিয়ে রাখা (কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ জায়গায়)। এখন আপনার আসল আয় হলো ২৭ হাজার টাকা। আপনি ‘বাকি টাকা’ জমাচ্ছেন না, বরং ‘জমানো টাকা বাদে বাকিটা’ খরচ করছেন। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অসাধারণ।

কাকেবো পালনের পাঁচটি ধাপ (বা পাঁচটি সহজ পাঠ)

১. হিসাব লেখা: প্রথম কাজ হলো একটা সুন্দর ডায়েরি বা খাতা কেনা। ফোনের অ্যাপে হিসাব রাখলে সেই মায়া তৈরি হয় না যা কলম দিয়ে কাগজে লিখলে হয়। মাসের শুরুতে লিখুন আপনার মোট আয় কত, আর বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিলের মতো একদম জরুরি খরচগুলো কত।

২. সঞ্চয়কে আদর করা: সঞ্চয়কে ভাবুন একটা আবশ্যিক খরচ হিসেবে। একে শুরুতেই সরিয়ে রাখুন।

৩. প্রতিদিনের ছোট খাতা: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দিন। আজ কত খরচ হলো – তা ছোট ছোট করে লিখে রাখুন। যখন আপনি হাতে লিখবেন, তখন প্রতিটি টাকার জন্য আপনার মায়া লাগবে। এই মায়াই হলো কাকেবোর আসল জাদু।

৪. চারটি খোপের হিসাব: আপনার খরচগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করুন:

  • আবশ্যিক: চাল, ডাল, বাড়িভাড়া।
  • ইচ্ছা: শখের কেনাকাটা বা বাইরের খাবার।
  • সাংস্কৃতিক: বই কেনা বা সিনেমা দেখা (মনকে খাবার দেওয়া)।
  • অতিরিক্ত: হুট করে আসা বিপদ বা কারো বিয়েতে উপহার।

৫. আয়নার সামনে দাঁড়ানো: মাস শেষে নিজের খাতাটার দিকে তাকান। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন – আমি কি লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি? কোথায় আমি একটু বেশি ‘মুদা’ (জাপানি শব্দে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়) করেছি? উত্তরটা পেলেই পরের মাসটা আরও সুন্দর হবে।

পরিশেষ
হানি মোতোকো শতবর্ষ আগে শিখিয়ে গেছেন – সঞ্চয় কোনো গাণিতিক বিষয় নয়, এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। আপনি যদি আপনার টাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ না রাখেন, তবে টাকা আপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করবে।

মকবুল সাহেব চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে ভাবলেন, কালই একটা নীল রঙের ডায়েরি কিনতে হবে। ডায়েরির প্রথম পাতায় বড় বড় করে লিখবেন – ‘কাকেবো’। কে জানে, হয়তো জাপানি এই সাংবাদিকের হাত ধরেই তাঁর শূন্য পকেটে আবার নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হবে।

মানুষ বড় বিচিত্র প্রাণী, সে জমানোর চেয়ে খরচ করতেই বেশি ভালোবাসে। কিন্তু ডায়েরির পাতায় যখন খরচের হিসাবগুলো কথা বলতে শুরু করে, তখন মানুষ সচেতন হতে বাধ্য হয়। আর সচেতনতা থেকেই শুরু হয় সঞ্চয়।

টাকা জমিয়ে আপনি কোনো দিনই ধনী হতে পারবেন না, তাহলে উপায়?

মকবুল সাহেব অতিশয় সাবধানে তাঁর সঞ্চয়পত্রের পাতা উল্টান। প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর তিনি কিছু টাকা ব্যাংকে রাখেন, কিছু টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেন। তাঁর ধারণা, এভাবে টাকা জমাতে জমাতে তিনি একদিন অনেক বড়লোক হয়ে যাবেন। বিশাল একটা গাড়ি কিনবেন, সেই গাড়িতে চড়ে হাওয়া খেতে খেতে যাবেন। মকবুল সাহেব জানেন না, বড়লোক হওয়ার এই স্বপ্নে একটা বড়সড় ফুটো আছে। সেই ফুটো দিয়ে তাঁর জমানো টাকাগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, টাকা শুধু ব্যাংকে ফেলে রাখলে সেটা বাড়ে না, বরং কমে। একে বলে মুদ্রাস্ফীতির খেলা। সহজ করে বললে- আজ একশ টাকায় আপনি যে কয়টা লাল টকটকে আপেল কিনতে পারছেন, দশ বছর পর সেই একশ টাকা দিয়ে হয়তো একটা ছোট আমড়াও পাবেন না। কাগজের নোটের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেই নোটের ‘ক্ষমতা’ কমছে। আপনি যখন ভাবছেন আপনি এক কদম এগোচ্ছেন, মুদ্রাস্ফীতি নামের দানবটা আপনাকে আসলে দুই কদম পিছিয়ে দিচ্ছে।

টাকা কি ঘুমানোর জন্য?

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, সঞ্চয় মানেই নিরাপত্তা। কথা সত্য। কিন্তু শুধু সঞ্চয় দিয়ে কেল্লাফতে হয় না। টাকা কোনো আলসে মানুষ নয় যে সে ব্যাংকের ভল্টে ঘুমাবে। টাকাকে কাজে পাঠাতে হয়। টাকা যখন আপনার হয়ে কাজ করবে, তখনই আপনি বড়লোক হওয়ার পথে হাঁটবেন। এর নাম হলো বিনিয়োগ। সেটা হতে পারে ব্যবসা, হতে পারে শেয়ারবাজার, রিয়েল এস্টেট কিংবা নিজের দক্ষতা বাড়ানো। টাকা যখন চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে, তখনই আসল খেলা শুরু হয়।

লেভারেজ এবং একটি লম্বা লাঠির গল্প

বড়লোক হওয়ার একটা অদ্ভুত জাদুমন্ত্র আছে, যাকে পণ্ডিতরা বলেন ‘লেভারেজ’। সহজ বাংলায় একে বলা যায়- নিজের সামান্য সম্বল দিয়ে পরের অনেক কিছু ব্যবহার করে বড় ফল পাওয়া।

ধরুন, আপনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা আছে। আপনি ৩০ লাখ টাকার একটা ফ্ল্যাট কিনলেন। বাকি ২৫ লাখ টাকা আপনাকে দিল ব্যাংক। কয়েক বছর পর সেই ফ্ল্যাটের দাম যখন ৪০ লাখ হলো, তখন আপনার নিজের পাঁচ লাখ টাকার ওপর এক বিশাল মুনাফা হলো। এটাই লেভারেজ।

শুধু টাকা দিয়ে নয়, লেভারেজ খাটাতে হয় বুদ্ধিতেও। একা কাজ করলে আপনি দিনে মাত্র আট-দশ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কিন্তু যদি একটা টিম থাকে, তবে আপনার হয়ে কাজ হবে শত শত ঘণ্টা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক কাজ দিয়ে বারবার ফল পাওয়াও একটা লেভারেজ। একটা বই লেখা, একটা ভিডিও বানানো কিংবা নতুন কোনো ভাষা শিখে আয় করা- এগুলো আপনার হয়ে দিনরাত কাজ করবে। আপনি যখন ঘুমাবেন, আপনার সিস্টেম তখন টাকা বানাবে।

ঝুঁকি এবং নুন-চিনি

অনেকে বলবেন, ঋণ নেওয়া বা বিনিয়োগ করা তো ঝুঁকির ব্যাপার। অবশ্যই ঝুঁকি আছে। তিতা ছাড়া যেমন নিমপাতা হয় না, ঝুঁকি ছাড়া তেমন বড়লোক হওয়া যায় না। ভুল বিনিয়োগ করলে যেমন লোকসান আছে, অতিরিক্ত ধার করলে তেমন মানসিক চাপ আছে। তবে হিসাব না করে ভয় পেয়ে বসে থাকাটা আরও বড় ঝুঁকি।

শেষ কথা

সঞ্চয় হলো আপনার ছাতা, যা আপনাকে বৃষ্টির দিনে রক্ষা করবে। কিন্তু বিনিয়োগ হলো আপনার চাষাবাদ, যা আপনাকে আগামী দিনে ফল দেবে। শুধু টাকা জমালে ভবিষ্যৎটা হয়তো কোনোমতে চলে যাবে, কিন্তু ভবিষ্যৎকে রাঙাতে হলে টাকাকে কাজে লাগাতে শিখতে হবে।

মকবুল সাহেব চায়ে চুমুক দিয়ে আবার হিসাব মেলাতে বসলেন। তিনি বুঝলেন, টাকা স্রেফ আলমারিতে তুলে রাখার জিনিস নয়, একে মুক্তি দিতে হয়। টাকাকে যখন আপনি স্বাধীন করে দেবেন আপনার জন্য কাজ করতে, তখনই আপনি প্রকৃত ধনী হওয়ার স্বাদ পাবেন।

জীবনটা বড় বিচিত্র, আর এই বিচিত্র জীবনে টাকার খেলাটা আরও রহস্যময়!

আপনার হাতের টাকা কতটা নোংরা? টাকা স্পর্শ করার পর কী করবেন

টাকা জিনিসটা বড়ই বিচিত্র। লোকে টাকার জন্য জীবন দেয়, আবার সেই টাকা হাতে নিয়ে হাসিমুখে আঙুলে থুতু ছিটিয়ে গোনেন। অথচ বিজ্ঞান বলছে, এই পরম আদরের টাকা আসলে এক একটা জীবন্ত জীবাণুর গুদাম। আপনি যখন খুব শখ করে পকেট থেকে দশ টাকার একটা কড়কড়ে নোট বের করছেন, তখন হয়তো সেই নোটে তিন হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া আপনার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক নিছক কৌতূহলবশত টাকার নোট পরীক্ষা করেছিলেন। যা বের হলো, তা শুনে সুস্থ মানুষের মূর্ছা যাওয়ার দশা। একটি টাকার নোটে যে পরিমাণ জীবাণু থাকে, তা নাকি একটা ব্যবহৃত টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি। তার মানে, টয়লেট সিটকে আমরা যতটা ঘৃণা করি, টাকার নোট তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি নোংরা। অথচ আমরা টয়লেট থেকে বেরিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুই, কিন্তু টাকা হাতবদল করার পর সেই হাতেই দিব্যি পরোটা ছিঁড়ে খাই। বিচিত্র এই মানব জীবন!

টাকা কেন এত নোংরা?

কারণটা সহজ। টাকা হলো এক যাযাবর। সে কারো কাছেই স্থির থাকে না। আজ যে টাকা মাছের বাজারের রক্ত-জলে ভেজা কোনো এক বিক্রেতার হাতে ছিল, কাল তা-ই চলে যাচ্ছে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে। তারপর ঘুরেফিরে আপনার পকেটে। টাকার কাগজের তন্তুগুলো খুব অদ্ভুত, সে মানুষের হাতের ঘাম, ধুলোবালি আর আর্দ্রতাকে চুম্বকের মতো টেনে নেয়। জীবাণুরা সেখানে রীতিমতো পিকনিক করে। একেকটা নোটে ই-কোলাই থাকে (যা আপনার পেটের বারোটা বাজিয়ে দেবে), থাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস- যে আপনার ত্বক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত সবখানে ঝামেলা পাকাতে পারে। এমনকি সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসও টাকার নোটে কয়েকদিন আয়েশ করে বেঁচে থাকতে পারে।

সবচেয়ে ভয়ংকর অভ্যাস

আমাদের দেশের মানুষ টাকা গোনার সময় একটা বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করেন- আঙুলে থুতু লাগানো। এটা এক ধরণের জাতীয় অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। আপনি যখন থুতু দিয়ে টাকা গুনছেন, আপনি আসলে টাকার নোটের হাজার বছরের জমানো জীবাণুকে সসম্মানে আপনার মুখে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় আত্মঘাতী কাজ আর কী হতে পারে?

কী করা উচিত?

জীবন তো আর থেমে থাকবে না, লেনদেনও চলবে। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ:

১. টাকা নাড়াচাড়া করার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। যদি হাতের কাছে সাবান না থাকে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

২. আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গোনার অভ্যাসটা আজই ত্যাগ করুন। প্রয়োজনে এক বাটি জল পাশে রাখুন।

৩. ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হোন। কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অন্তত আপনার হাত কোনো জীবাণুর ‘মিউজিয়াম’ স্পর্শ করছে না।

৪. আপনার মানিব্যাগ বা পার্সটি মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করুন। টাকার সাথে ভুলেও রুমাল বা টিস্যু পেপার রাখবেন না।

৫. বাচ্চাদের হাতে টাকা দেবেন না। তারা না বুঝে টাকা মুখে দিতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

টাকা জীবন চালায় ঠিকই, কিন্তু সেই টাকাই যেন জীবন না কেড়ে নেয়। সচেতন হওয়া দরকার। সচেতনতা মানুষের এক মহৎ গুণ। আসুন, আমরা টাকা ধরার পর অন্তত একবার হলেও হাত ধুই। শরীরটা সুস্থ থাকলে দুনিয়ার সব টাকাই আপনার। আর শরীর না থাকলে ওই জমানো টাকার নোটগুলো আপনার কোনো কাজেই আসবে না।

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল- এই কথাটা ছোটবেলায় মুখস্থ করেছিলেন কেবল পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য নয়, বাস্তব জীবনেও মাঝেমধ্যে প্রয়োগ করতে হয়।