বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। এমন দিনে জানালার পাশে বসে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা আর এক প্লেট গরম খিচুড়ি নিয়ে বসাটাই ছিল দস্তুর। কিন্তু জীবন তো আর গল্পের বই নয়। প্রয়োজনে আপনাকে গাড়ি নিয়ে বেরোতেই হচ্ছে। পিচ্ছিল রাস্তা, ঝাপসা চারপাশ – এমন সময় ড্রাইভিং সিটে বসে আপনি কী করবেন? মিছরিছুরি দিয়ে কথা না বলে বরং কাজের কথায় আসি। আপনার গাড়ির কোন ‘মোড’টি আপনাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবে, তা জানা খুব জরুরি।
স্পোর্ট মোড: বৃষ্টির দিনে একে একটু দূরেই রাখুন
স্পোর্ট মোড জিনিসটা হলো টগবগে যুবকের মতো। তার গায়ের শক্তি বেশি, কিন্তু ধৈর্য কম। এই মোড মূলত বানানো হয়েছে শুকনো রাস্তায় ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। ইঞ্জিনের সবটুকু শক্তি সে চাকার ওপর ঢেলে দেয়। কিন্তু বৃষ্টির দিনে রাস্তা যখন পিচ্ছিল, তখন এই অতিরিক্ত শক্তিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। টায়ার তখন রাস্তা কামড়ে ধরতে পারে না, বরং বরফের ওপর স্কেটিং করার মতো পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই বৃষ্টির দিনে স্পোর্ট মোডকে একটু বিশ্রাম দিন, সে বরং রোদ ঝলমলে দিনের জন্য তোলা থাক।
ইকো মোড: আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু
অনেকেই ভাবেন ইকো মোড মানে কেবল তেল সাশ্রয়। ভুল ভাবছেন। বৃষ্টির দিনে ইকো মোড অনেকটা আপনার সেই শান্ত-শিষ্ট বড় ভাইয়ের মতো, যে পা টিপে টিপে সাবধানে চলে। এই মোডে গাড়ি চালালে ইঞ্জিনের শক্তি চাকায় খুব ধীরে এবং মসৃণভাবে পৌঁছায়। এতে চাকা হুট করে ঘুরে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় থাকে না। কাদা বা জমে থাকা পানিতে ইকো মোড আপনাকে দেবে সেই ভরসা, যা এই শ্রাবণে খুব দরকার।
নরমাল মোড: যদি ইকো না থাকে
আপনার গাড়িতে যদি ইকো মোড না থাকে, তবে নরমাল মোড ব্যবহার করতে পারেন। এটি হলো অনেকটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মতো – ভালো মন্দের মাঝামাঝি। তবে মনে রাখবেন, রাস্তা যদি বেশি ভেজা থাকে, তবে এই মোডেও কিন্তু গতি একদম কমিয়ে রাখতে হবে। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়ে এলে বা রাস্তা একটু শুকিয়ে গেলে হাইওয়েতে এটি মন্দ নয়।
রেইন বা ওয়েট মোড: আশীর্বাদের মতো
এখনকার অনেক আধুনিক গাড়িতে আবার ‘রেইন মোড’ বা ‘ওয়েট মোড’ নামের বিশেষ একটা বোতাম থাকে। এটি যেন খোদ বৃষ্টির জন্যই তৈরি। এই মোড চালু করলে গাড়ির ভেতরের কম্পিউটার নিজেই চাকার গ্রিপ আর ভারসাম্য ঠিক করে নেয়। আপনার গাড়িতে যদি এই জাদুটি থাকে, তবে অন্য কোনো মোডের কথা চিন্তাই করবেন না। সরাসরি রেইন মোড বেছে নিন।
শেষ কথা
বৃষ্টির দিন যেমন সুন্দর, রাস্তার ওপর জমে থাকা পানি কিন্তু তেমনই বিপজ্জনক। মনে রাখবেন, গাড়ির মোড যা-ই হোক, আসল নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আপনার হাতে। সাবধানে গাড়ি চালান। মনে রাখবেন, বাড়িতে কেউ একজন আপনার জন্য গরম খিচুড়ি আর এক বাটি মাংস রান্না করে অপেক্ষা করছে। তার কাছে সুস্থভাবে পৌঁছানোই হোক আপনার আসল লক্ষ্য।
বাইরে বৃষ্টি বাড়ছে। মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে। সাবধানে থাকুন। শুভ যাত্রা!


