গাড়িতে চড়ে বসলেন। বেশ একটা রাজকীয় ভাব। বাইরে রোদের তেজ, কাক পর্যন্ত হাঁ করে নিঃশ্বাস ফেলছে। আপনি আয়েশ করে এসির সুইচটা টিপলেন। কিন্তু একি! ঠান্ডা বাতাসের বদলে এক অদ্ভুত ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এল। মনে হলো, দশ দিন ধরে কেউ একটা ভেজা তোয়ালে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে রেখেছে, আর আপনি সেই ব্যাগের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
খুব বিরক্তিকর অবস্থা, তাই না?
অনেকেই এই গন্ধটাকে তেমন পাত্তা দেন না। ভাবেন, পুরোনো গাড়ি, একটু-আধটু গন্ধ তো হবেই। কিন্তু ভাই সাহেব, ব্যাপারটা মোটেও তেমন নয়। এই গন্ধের পেছনে লুকিয়ে আছে ছোটখাটো এক ভুতুড়ে জগৎ, যা আপনার স্বাস্থ্যের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।
গন্ধটা কোত্থেকে আসে?
গাড়ির এসির ভেতরে একটা যন্ত্র থাকে, যার নাম ‘ইভাপোরেটর’। এসি যখন চলে, এই যন্ত্রটা তখন প্রচুর ঘামায়। মানে, ঘামের মতো পানি জমে সেখানে। এই পানি যদি ঠিকমতো বের হতে না পারে, তবে সেখানে এক প্রকার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছত্রাক আর ব্যাকটেরিয়ার মেলা বসে যায়। তারা মনের সুখে সেখানে সংসার পাতে এবং বংশবৃদ্ধি করে। আপনি যখনই এসি ছাড়েন, তারা আপনাকে সাদর সম্ভাষণ জানায় ওই বিদঘুটে গন্ধ দিয়ে।
আবার অনেক সময় দোষটা আপনারও হতে পারে। গত মাসে সিটের নিচে পটেটো চিপসের যে টুকরোটা পড়েছিল, কিংবা বৃষ্টির দিনে ভেজা জুতো নিয়ে যে গাড়িতে উঠেছিলেন – সেই আর্দ্রতা আর ময়লা মিলেই এই কাণ্ডটা ঘটাতে পারে।
বিপদের আগাম বার্তা
সব গন্ধ কিন্তু এক নয়। যদি এসি ছাড়ার পর নাকে পোড়া গন্ধ লাগে, তবে বুঝবেন বড় কোনো ইলেকট্রিক গোলমাল হচ্ছে। যদি পেট্রোলের গন্ধ পান, তবে সাবধানে থাকুন – হয়তো কোথাও থেকে তেল লিক করছে। এগুলো কিন্তু অবহেলার জিনিস নয়। জীবনটা বড়ই অনিশ্চিত, মিছেমিছি শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ানোর তো কোনো দরকার নেই!
মুক্তির উপায় কী?
সমাধান খুব সহজ। গাড়িকে একটু মায়া-মমতা দেখান। নিয়ম করে কেবিন এয়ার ফিল্টারটা বদলে ফেলুন। আর একটা ছোট্ট টোটকা বলি – গন্তব্যে পৌঁছানোর মিনিট পাঁচেক আগে এসির বোতামটা বন্ধ করে শুধু ফ্যানটা চালিয়ে রাখুন। এতে ইভাপোরেটরের ভেতর জমে থাকা পানিটুকু শুকিয়ে যাবে। ছত্রাক আর ব্যাকটেরিয়াগুলো বাসা বাঁধার সুযোগ পাবে না।
জীবনটা আসলে খুব ছোট। এই ছোট জীবনে অস্বস্তিকর গন্ধ নিয়ে গাড়ি চালানোর কোনো মানে হয় না। গাড়িটা পরিষ্কার রাখুন, এসিটা ঠিক রাখুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক। বাইরে মেঘ ডাকছে, বৃষ্টি নামলে এসির দরকারও পড়বে না – জানলা খুলে বৃষ্টির গন্ধ নিতে নিতে বাড়ি ফিরুন। সেটা আরও বেশি আরামের হবে।


